নবজাতক কুকুরছানার ২৪ ঘণ্টার লাইভ সম্প্রচার: ফিনল্যান্ডের টিভিতে লাখো দর্শকের ভিড়
একটি কুকুর ও তার ছয়টি নবজাতক ছানার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত নিয়ে ফিনল্যান্ডের ২৪ ঘণ্টার একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান টানছে লাখো দর্শককে। ‘পেন্টুলাইভ’ বা ‘পাপি লাইভ’ নামের এই আয়োজন এখন দেশটির টেলিভিশনের অন্যতম বড় হিট।
২৪ ঘণ্টার ওয়েবক্যামের পাশাপাশি অনুষ্ঠানটিতে রয়েছে কুকুরগুলোর প্রজননকারীর সঙ্গে সন্ধ্যার সরাসরি আলাপচারিতা, একটি পডকাস্ট এবং ছানাদের অগ্রগতির তাৎক্ষণিক খবর পৌঁছে দেওয়ার সেবা — জন্ম থেকে ওজন মাপা আর প্রথম নখ কাটা পর্যন্ত, টানা আট সপ্তাহ ধরে।
সম্প্রচারক ইলের তৈরি এই জনপ্রিয় অনুষ্ঠানটির এটি ষষ্ঠ মৌসুম। এটিকে বলা হচ্ছে নর্ডিক সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান ‘স্লো টিভি’ ধারার সর্বশেষ সংযোজন।
এই ধারার শুরু নরওয়েতে ২০০৯ সালে, এনআরকের সাত ঘণ্টার ট্রেনযাত্রার সম্প্রচার ‘বার্গেনসবানেন’ দিয়ে। পরে সুইডেনে এসভিটির ‘দ্য গ্রেট মুস মাইগ্রেশন’ এসেছে, যেখানে দেশের উত্তরের মুস হরিণদের গ্রীষ্মের চারণভূমির দিকে বার্ষিক যাত্রার বর্ণনাহীন ঝলক দেখানো হয়।
পেন্টুলাইভ দীর্ঘদিন ধরেই ফিনল্যান্ডের বাইরে আগ্রহ টানছে। তবে এবারই প্রথম এটি সুইডেনেও সম্প্রচারিত হচ্ছে ‘ভালপারনা লাইভ’ নামে। ইলে সম্প্রতি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটির ফরম্যাট নেদারল্যান্ডসের একটি সম্প্রচারকের কাছেও বিক্রি করা হয়েছে।
ইলের ফ্যাকচুয়াল সাংবাদিকতার সম্পাদকীয় ব্যবস্থাপক ভিলে আলিয়োকি বলেছেন, ‘এর মধ্যে এক ধরনের জাদু আছে — এই পৃথিবীটা মাঝে মাঝে যখন বেশ অন্ধকার হয়ে ওঠে, মানুষ যা মিস করে, এটা অনেকটা সেটাই।’
শনিবার লাগোটো রোমানিওলো জাতের ছানাগুলো — চারটি পুরুষ ও দুটি মেয়ে — তাদের দুই সপ্তাহের জন্মদিন পালন করবে দর্শকদের ভোটে আনুষ্ঠানিক নাম পাওয়ার মধ্য দিয়ে। মনোনীত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্থা, টিমো, রোনজা ও দান্তে।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ছানাগুলো তাদের মা হিলকাকে ছেড়ে নতুন পরিবারে দত্তক যাবে। ফলে আট সপ্তাহের এই সম্প্রচারের শেষটা হবে তাদের নতুন জীবনে যাত্রা।
জীবনের প্রথম দুই সপ্তাহেই এবারের ছানারা অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে লাখো ভিউ টেনেছে। ভক্তদের ভাষ্য, ছানারা কাজের ফাঁকে স্বস্তি দেয় এবং মানসিক চাপ, একাকীত্ব ও অসুস্থতা থেকে সান্ত্বনা জোগায়।
ধীরগতির, বর্ণনাহীন ও দৈনন্দিন জীবনঘেঁষা সম্প্রচারের এই ধারা কেন এত মানুষকে টানছে, পেন্টুলাইভের সাফল্য সেই প্রশ্নটাকেই আবার সামনে এনেছে। দ্রুতগতির খবর আর উত্তেজনার ভিড়ে শান্ত, একটানা দৃশ্যের প্রতি দর্শকের আগ্রহ যে বাড়ছে, ফিনল্যান্ডের এই অভিজ্ঞতা তারই প্রমাণ।





