ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই: এক দিনে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ২৯৯ জন
ডেঙ্গুর প্রকোপ কোনোভাবেই কমছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এক দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৯৯ জন।
এক দিনে প্রায় তেরোশ রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার এই সংখ্যা পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট করে দিচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে আসছেন, ফলে চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ বাড়ছে।
উদ্বেগের আরেকটি দিক হলো মৃত্যুর ঘটনা এখন ঢাকার বাইরেও ঘটছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় মৃত তিনজনই ঢাকার বাইরের। অর্থাৎ ডেঙ্গুর প্রাণহানি আর শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নেই।
ঢাকার বাইরে মৃত্যুর এই প্রবণতা ইঙ্গিত দেয়, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতেও গুরুতর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সেখানে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পৌঁছানো আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিদিন হাজারের বেশি রোগী ভর্তি হওয়ার ধারা চলতে থাকলে হাসপাতালের শয্যা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর টানা চাপ তৈরি হয়। ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে রক্তের প্লাটিলেট পরীক্ষা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি হওয়ায় এই চাপ আরও বেশি অনুভূত হয়।
মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ বাড়ার পেছনে এডিস মশার বংশবৃদ্ধিই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটে বলে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর বারবার জোর দেওয়া হয়।
জ্বর হলেই অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে দেরি করে হাসপাতালে গেলে রোগীর অবস্থা জটিল হয়ে উঠতে পারে, যা প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই পরিবারের কারও জ্বর ও ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
এক দিনে তিনটি মৃত্যু ও প্রায় তেরোশ ভর্তির এই চিত্র বলছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও এখন সবচেয়ে জরুরি।
বাড়ির ভেতরে ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র ও ছাদে জমা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং মশারি ব্যবহারের মতো সাধারণ সতর্কতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল উপায়।
আগামী দিনগুলোতে আক্রান্ত ও ভর্তির সংখ্যা কোন দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে পরিস্থিতির পরবর্তী চিত্র। আপাতত হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ ও ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর ঘটনা সবাইকে সতর্ক থাকারই বার্তা দিচ্ছে।




