…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আমেরিকা › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আমেরিকা

সংবিধানের দুই মেয়াদের সীমা থাকলেও তৃতীয় মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ‘অধিকার’ আছে বলে দাবি ট্রাম্পের

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি ২০২৮ সালে তৃতীয় মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। অথচ মার্কিন সংবিধান প্রেসিডেন্টদের নির্বাচিত দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকার সুযোগ দেয় না। ট্রাম্পের যুক্তি, ২০২০ সালের নির্বাচন তাঁর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল—তাই তাঁর আবার দাঁড়ানোর অধিকার থাকা উচিত।

আইওয়ার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প স্বীকার করেন, আইনের ভাষায় ব্যাখ্যার সুযোগ খুব কমই আছে। তবে তিনি দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংবিধানিক শব্দগুলো খুঁটিয়ে দেখেছেন এবং তাঁর সিদ্ধান্ত বদলায়নি—২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপি হয়েছিল বলেই তিনি মনে করেন তাঁকে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির যে অভিযোগ ট্রাম্প বারবার তুলে আসছেন, তা আজ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। তবু সমর্থকদের সামনে তিনি সেই পুরোনো দাবিই নতুন করে তুলে ধরলেন এবং তৃতীয় মেয়াদের প্রশ্নটিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এলেন।

মার্কিন সংবিধানের বাইশতম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। এই সীমারেখা দশকের পর দশক ধরে মার্কিন রাজনীতির অন্যতম মৌলিক নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, আইনটির ভাষা এতটাই স্পষ্ট যে সেখানে ব্যাখ্যার ফাঁক প্রায় নেই বললেই চলে।

তারপরও তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে তৃতীয় মেয়াদের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছেন—এমন দৃশ্য মার্কিন রাজনীতিতে বিরল। আইওয়ার জনসভার মঞ্চ থেকে দেওয়া এই বক্তব্য তাই শুধু নির্বাচনি প্রচারের কথাবার্তা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না; এটি সাংবিধানিক সীমা নিয়ে বিতর্কটিকে আবার সামনে এনেছে।

ট্রাম্পের যুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে ২০২০ সালের নির্বাচন। তাঁর দাবি, সেই নির্বাচন ‘চুরি’ করা হয়েছিল, অর্থাৎ বাস্তবে তাঁর একটি মেয়াদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সেই হিসাব থেকেই তিনি মনে করেন, ২০২৮ সালে আবার প্রার্থী হওয়ার নৈতিক অধিকার তার রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে এই যুক্তিই বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে।

তবে আইন বিশেষজ্ঞদের চোখে সংবিধানের বাধা সুনির্দিষ্ট, আর ট্রাম্প নিজেও সেই বাস্তবতা অস্বীকার করেননি। তিনি বলেছেন, তিনি সাংবিধানিক বাক্যগঠন দীর্ঘদিন ধরে পর্যালোচনা করেছেন। অর্থাৎ তাঁর এই দাবি আইনি পথের চেয়ে রাজনৈতিক মঞ্চের বক্তব্য হিসেবেই বেশি শোনাচ্ছে—যা সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা ও উদ্দীপনা ধরে রাখার কৌশলও হতে পারে।

২০২৮ সালের নির্বাচন এখনো অনেকটা দূরে। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্টের মুখ থেকে তৃতীয় মেয়াদের কথা উচ্চারিত হওয়ায় ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি নিছক কথার কথা, নাকি ভবিষ্যতে সাংবিধানিক সীমা নিয়ে প্রকৃত কোনো বিতর্কের সূত্রপাত? আপাতত ট্রাম্প তার অবস্থানে অনড় বলেই মনে হচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালত বা সংবিধান সংশোধনের মতো কঠিন পথ ছাড়া এগোনোর সুযোগ নেই, কারণ দুই মেয়াদের সীমা সংবিধানেই লেখা। ট্রাম্পের বক্তব্য সেই সীমা বদলাতে পারবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে ২০২৮-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, এই প্রশ্ন মার্কিন রাজনীতিতে ততই জোরালো হয়ে উঠবে—এটা প্রায় নিশ্চিত।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আমেরিকা বিভাগের আরও খবর

আমেরিকা

রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিল আটকে গেল ট্রাম্পের চাপে, নিজ দলেই সতর্কবার্তা—পুতিনের ওপর চাপ কমছে

রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি ব্যাপক দ্বিদলীয় বিল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে আটকে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মিত্রদের বিলটি আপাতত এগ…

আমেরিকা

ট্রাম্পকে ক্ষমতায় আনা হিস্পানিক ভোটাররাই এখন মুখ ফেরাচ্ছেন টেক্সাসে

টেক্সাসের রিও গ্রান্দে উপত্যকায় ভোরের আলো ফোটার আগেই ছোট্ট লা লোমিতা ক্যাথলিক চ্যাপেলে প্রার্থনার জন্য জড়ো হচ্ছিলেন মানুষ। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় …

আমেরিকা

মিডটার্মের আগে রিপাবলিকানদের সতর্কবার্তা ট্রাম্পের নিজের সমর্থকদেরই: দাম আর যুদ্ধ নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে অনুগত সমর্থকেরাই এবার সতর্কবার্তা দিচ্ছেন রিপাবলিকানদের। আইওয…

আমেরিকা

হরমুজ আবার বন্ধ হলে বিশ্বের তেলের মজুত টিকবে মাত্র এক-দুই মাস: বহু দশকের সর্বনিম্নে জরুরি ভান্ডার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ নতুন করে পুরোদমে শুরু হয়ে হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বের জরুরি তেলের মজুত দিয়ে মাত্র এক থেকে দুই মাস চলা সম্ভব হব…