ছয় দশকের পর্দাজীবনের ইতি: ৯৩ বছরে চলে গেলেন হলিউড অভিনেতা টম স্কেরিট
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও প্রবীণ হলিউড অভিনেতা টম স্কেরিট আর নেই। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে বার্ধক্যজনিত স্বাভাবিক কারণে ৯৩ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গম্ভীর ব্যক্তিত্ব ও তাঁর ট্রেডমার্ক গোঁফের জন্য পরিচিত এই অভিনেতা প্রায় ছয় দশক ধরে হলিউডের রূপালি পর্দায় নিজের বলিষ্ঠ উপস্থিতি বজায় রেখেছিলেন। এত দীর্ঘ সময় ধরে পর্দায় সক্রিয় থাকা অভিনেতা হলিউডে হাতে গোনা।
তাঁর অভিনয়জীবনের মূল উত্থান ঘটে ১৯৭০ সালে মুক্তি পাওয়া রবার্ট অল্টম্যানের সাড়া জাগানো সিনেমা ‘ম্যাশ’-এর মাধ্যমে। সেই ছবিই তাঁকে বৃহত্তর দর্শকের সামনে তুলে ধরে এবং পরবর্তী দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ভিত গড়ে দেয়।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বৈচিত্র্যময় অভিনয়ের স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ১৯৭৭ সালের অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্র ‘দ্য টার্নিং পয়েন্ট’-এ তাঁর অভিনয় যেমন আলোচিত, তেমনি ১৯৯২ সালে রবার্ট রেডফোর্ডের ‘এ রিভার রান্স থ্রু ইট’-এও তিনি নিজের অভিনয়শৈলীর স্বতন্ত্র ছাপ রেখেছেন।
তবে বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় দুটি কাজ সম্ভবত দুটি ভিন্ন ঘরানার ছবিতে। কালজয়ী সায়েন্স ফিকশন ‘এলিয়েন’-এ তাঁর উপস্থিতি ছবিটির ভীতিকর আবহের অংশ হয়ে আছে।
অন্যদিকে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাঁপানো সিনেমা ‘টপ গান’-এ টম ক্রুজের এয়ার ফোর্স ইনস্ট্রাক্টর ‘ভাইপার’ চরিত্রে তাঁর দুর্দান্ত উপস্থিতি আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে উজ্জ্বল হয়ে আছে। কঠোর অথচ অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের সেই চরিত্রটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিল।
শুধু অভিনয়েই নয়, গল্প বলার ব্যতিক্রমী দক্ষতা এবং সমাজহিতৈষী কর্মকাণ্ডের কারণেও সহকর্মী ও অনুরাগীদের কাছে তিনি বিশেষভাবে সমাদৃত ছিলেন। ক্যামেরার বাইরের এই ভূমিকাই তাঁকে সমকালীনদের কাছে আলাদা মর্যাদা এনে দিয়েছিল।
প্রবীণ এই শিল্পীর প্রয়াণে বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছয় দশক ধরে যাঁর মুখ পর্দায় দেখে বড় হয়েছেন অসংখ্য দর্শক, তাঁর বিদায়ে একটি যুগের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন অনুরাগীরা।
৯৩ বছরের জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি কাটিয়েছেন অভিনয়ের জগতে। ‘ম্যাশ’ থেকে ‘এলিয়েন’ আর ‘টপ গান’—প্রতিটি দশকেই তিনি নতুন প্রজন্মের দর্শকের সঙ্গে নিজেকে নতুন করে পরিচিত করেছেন।
টম স্কেরিটের মৃত্যুতে হলিউড হারাল তার অন্যতম দীর্ঘজীবী চরিত্রাভিনেতাকে। তাঁর কাজগুলোই এখন থেকে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে দর্শকের স্মৃতিতে—বিশেষ করে ‘ভাইপার’ চরিত্রটি, যা ছাড়া ‘টপ গান’-এর গল্প ভাবাই কঠিন।




