মৌলভীবাজার সদরে ১২ চেয়ারম্যান ও ১১২ মেম্বার পদে জয়ের লক্ষ্য বিএনপির
সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার সদর এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দলটি মৌলভীবাজার সদরে ১২টি চেয়ারম্যান পদ এবং ১১২টি মেম্বার পদে জয় পেতে চায় বলে জানা গেছে।
চেয়ারম্যান ও মেম্বার মিলিয়ে মোট ১২৪টি পদে জয়ের এই লক্ষ্য থেকেই বোঝা যায়, সদর এলাকার তৃণমূল রাজনীতিতে বিএনপি বড় ধরনের সাফল্যের হিসাব কষছে। স্থানীয় সরকারের এই পদগুলো সরাসরি এলাকার মানুষের দৈনন্দিন সেবা ও উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত, তাই এসব পদে জয় যেকোনো দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
মৌলভীবাজার সিলেট বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। জেলা সদরের রাজনৈতিক অবস্থান পুরো জেলার রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলে। ফলে সদরে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে ভালো ফল করতে পারলে জেলাজুড়ে দলীয় অবস্থান শক্ত হবে বলেই রাজনৈতিক মহলে মনে করা হয়।
চেয়ারম্যান পদগুলো স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের সবচেয়ে দৃশ্যমান আসন। এসব পদে জয় মানে এলাকার উন্নয়নকাজ, সামাজিক বিচার-সালিস থেকে শুরু করে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ। তাই প্রতিটি চেয়ারম্যান পদ নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে তীব্র লড়াই হওয়াই স্বাভাবিক।
অন্যদিকে মেম্বার পদগুলোর সংখ্যা অনেক বেশি — এখানে বিএনপির লক্ষ্য ১১২টি। ওয়ার্ড পর্যায়ের এই প্রতিনিধিরাই সাধারণ মানুষের সবচেয়ে কাছের জনপ্রতিনিধি। পাড়া-মহল্লার রাস্তাঘাট, পানি, স্যানিটেশনসহ ছোট ছোট সমস্যার কথা মানুষ প্রথমে মেম্বারদের কাছেই তুলে ধরেন।
সেই কারণে মেম্বার পদে বেশি জয় পাওয়া মানেই তৃণমূলে দলের বিস্তৃত উপস্থিতি। বিএনপি যদি তার ঘোষিত লক্ষ্যের কাছাকাছি ফল করতে পারে, তাহলে মৌলভীবাজার সদরের প্রায় প্রতিটি এলাকায় দলটির নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকবেন।
স্থানীয় রাজনীতিতে এমন বড় লক্ষ্য ঘোষণা করা দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙা রাখারও একটি উপায়। প্রার্থী ও কর্মীরা বুঝতে পারেন, দল সর্বোচ্চ ফলই প্রত্যাশা করছে, ফলে প্রচার ও সংগঠনের কাজে গতি আসে।
তবে লক্ষ্য ঘোষণা করা আর ভোটের মাঠে তা অর্জন করা এক কথা নয়। প্রতিটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে লড়তে হবে, ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে হবে এবং নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে হবে।
মৌলভীবাজার সদরের ভোটারদের কাছেও এই লক্ষ্য একটি বার্তা — বিএনপি স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত বলে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থীদের বেছে নেবেন, তা নির্ভর করবে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও এলাকায় তাদের কাজের ওপর।
আগামী দিনগুলোতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা, প্রচার শুরু করা এবং এলাকাভিত্তিক কর্মসূচি সাজানোর মধ্য দিয়ে এই লক্ষ্য কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে মৌলভীবাজার সদরের রাজনৈতিক অঙ্গনের।



