…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › স্বাস্থ্য › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
স্বাস্থ্য

অভিযান আর ওষুধেও থামছে না ডেঙ্গু: এ বছর আক্রান্ত ১ লাখ ১৮ হাজার, প্রাণ গেছে ৩৬৮ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাজধানীসহ সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশার ওষুধ ছিটানো, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস আর জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা প্রস্তুতি জোরদারের পাশাপাশি চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এত উদ্যোগের পরও ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু কমছে না — বরং বছর শেষের পথে এসেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়েই থেকে গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০২ জন। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৬৮ জনের। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন এবং মারা গেছেন ১৪৮ জন। আর অক্টোবরে এ পর্যন্ত আক্রান্ত ৩৮ হাজার ৮৮২ জন, মৃত্যু হয়েছে ১২৩ জনের। এই ধারাবাহিক চাপে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ ও মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে গত সেপ্টেম্বরে দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এতে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষার্থী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় লার্ভিসাইডিং, ফগিং, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতামূলক প্রচার ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম চলছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন তাদের ৭৫টি ওয়ার্ডকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাচ্ছে। বর্ষার আগের জরিপে এসব ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিকেই ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনও নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো, লার্ভা ধ্বংস ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করার কাজ করে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি এডিস মশার প্রকৃত প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস, ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা নিয়মিত যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা না গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া কঠিন হবে। মশার ঘনত্ব আসলে কতটা কমছে, ব্যবহৃত ওষুধ কতটা কাজ করছে এবং কোন এলাকায় নতুন করে প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে — এসব নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তাঁরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক থাকতে পারে। গত কয়েক বছরে এ সময়েই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেশি ছিল। পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে তাঁর ধারণা।

ড. কবিরুল বাশার বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রথম কাজ হলো এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করা। কোথায় মশা বংশবিস্তার করছে, কোন ধরনের স্থানে লার্ভা বেশি পাওয়া যাচ্ছে এবং ব্যবহৃত কীটনাশক কতটা কার্যকর — এসব বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। প্রজননস্থল শনাক্ত না করে নির্বিচারে কীটনাশক ছিটালে সুফল মিলবে না।

তিনি আরও বলেন, এডিস মশা শুধু নালা বা সড়কের পাশে জন্মায় না। বাড়ির ছাদ ও বারান্দায় জমে থাকা পানি, ফুলের টব, পানির ট্যাংক, নির্মাণাধীন ভবন, বেজমেন্ট ও গাড়ি রাখার জায়গায়ও মশার প্রজনন হতে পারে। এসব জায়গায় নজর না দিলে রাস্তা ও নালা পরিষ্কার করার পরও মশার বিস্তার অব্যাহত থাকতে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ফগিং, মৌসুমি পরিদর্শন কিংবা কারও বাসায় পানি জমে থাকলে জরিমানা করার ওপর নির্ভর করে এডিস মশা পুরোপুরি নির্মূল করা যাবে না। নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত যানবাহন, খোলা ড্রাম, ভাঙা পাত্র ও ছাদে জমে থাকা পানিতে নিয়মিত লার্ভা ধ্বংস করতে হবে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বলেছেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের ধরনে পরিবর্তন এসেছে এবং কিছু রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। চিকিৎসকদের প্লাজমা লিকেজের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়নি বলে দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকেরা নির্ধারিত চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুসরণ করছেন। প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে, পূর্ণবয়স্ক মশা মারতে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে এবং লার্ভা ধ্বংসেও ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনঘনত্ব ও মানুষের অসচেতনতার কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে; ছাদে ফুলের টবসহ বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। সরকার সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে; তবে ডেঙ্গু সম্পূর্ণ নির্মূল হয়ে গেছে — এমন দাবি সরকার কখনো করেনি, বলেন তিনি।

সব মিলিয়ে অক্টোবরের শেষ প্রান্তে এসেও ডেঙ্গুর চাপ কমার লক্ষণ স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী নভেম্বরজুড়ে ঝুঁকি থেকে যেতে পারে; এই সময়ে প্রজননস্থল ধ্বংস ও নজরদারি কতটা জোরদার হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে বছর শেষের চিত্র।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

স্বাস্থ্য বিভাগের আরও খবর

স্বাস্থ্য

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮১

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮১ জন …

স্বাস্থ্য

ডেঙ্গু ঠেকাতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কঠোর নির্দেশ মাউশির

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মা…

স্বাস্থ্য

উগান্ডার বিমানবন্দরেই কি সংক্রমণ? নাইজেরিয়া ও কেনিয়ার ইবোলা রোগীর পথ মিলেছিল এনটেবেতে, তদন্তে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

নাইজেরিয়া ও কেনিয়ার দুই ইবোলা রোগী চলতি মাসের শুরুতে উগান্ডার প্রধান বিমানবন্দরে পথ অতিক্রম করেছিলেন কি না — তা খতিয়ে দেখছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।…

স্বাস্থ্য

ঢাকার বাতাস আজও অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ স্কোর নিয়ে তালিকার ১৬তম স্থানে রাজধানী, শীর্ষে লাহোর

ঢাকার বাতাসের মান আজও অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়ে গেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ১৫১।…