মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিউ হ্যাম্পশায়ারে শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র বাতিলে সুপ্রিম কোর্টের সবুজ সংকেত
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তাদের শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র ভোট দেওয়ার বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ না করার অনুমতি দিয়েছেন। আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগমুহূর্তে আসা এই সিদ্ধান্তে রাজ্যটিতে ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম নিয়ে চলা আইনি টানাপোড়েন নতুন মোড় নিল।
এর আগে একটি নিম্ন আদালতের বিচারক রায় দিয়েছিলেন যে রাজ্য কর্মকর্তারা শিক্ষার্থী পরিচয়পত্রের ব্যবহার সীমিত করা নতুন আইনের চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, যেসব ভোটারের পরিচয় যাচাইয়ের অন্য কোনো উপায় নেই, তাদের ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রমাণের পাশাপাশি শিক্ষার্থী পরিচয়পত্রও বিবেচনায় নিতে হবে কর্মকর্তাদের।
তবে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে বিচারকের হস্তক্ষেপ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। আদালতের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, নির্বাচনের খুব কাছাকাছি সময়ে দেওয়া আদেশ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে — এই ধারণাটি ‘পার্সেল নীতি’ নামে পরিচিত। এই রায়ে আদালত মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী এলাকা পুনর্নির্ধারণের মানচিত্র নিয়ে সাম্প্রতিক আইনি ওঠানামার কথাও উল্লেখ করেছেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে আদালত লিখেছেন, ‘এ ক্ষেত্রে জেলা আদালত এমন কিছুই দেখাতে পারেননি, যা এই নীতি থেকে সরে আসাকে যৌক্তিক করে।’ অর্থাৎ নির্বাচনের আগমুহূর্তে নিম্ন আদালতের নির্দেশ বহাল রাখার কোনো যুক্তি সর্বোচ্চ আদালত খুঁজে পাননি।
তবে বিচারপতি কেতাঞ্জি ব্রাউন জ্যাকসন এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাঁর মতে, এই নীতি এখানে প্রযোজ্যই নয়, কারণ নিম্ন আদালতের বিচারক আসলে জনগণ যেন সঠিক তথ্য পায়, তা নিশ্চিত করতেই কাজ করছিলেন।
ভিন্নমতে বিচারপতি জ্যাকসন লিখেছেন, ‘কোনো ফেডারেল আদালত যখন দেখেন যে কোনো রাজ্যের নির্বাচনী নিয়ম সম্পর্কে বস্তুগতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তখন সেই আচরণ বন্ধে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে না, বরং সেই সমস্যাটাই প্রতিরোধ করে।’ তিনি আরও লিখেছেন, জনগণ যেন রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য পায়, তা নিশ্চিত করতে দেওয়া স্পষ্টভাবে যৌক্তিক একটি ফেডারেল আদালতের আদেশ তিনি বদলে দিতেন না।
এই বিতর্কের শুরু চলতি বছরের এপ্রিলে, যখন গভর্নর কেলি আয়োত হাউস বিল ৩২৩-এ স্বাক্ষর করে তা আইনে পরিণত করেন। ওই আইনে ব্যালট পাওয়ার জন্য সুস্পষ্টভাবে বৈধ বিবেচিত পরিচয়পত্রের তালিকা থেকে শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র বাদ দেওয়া হয়। আইনটি কার্যকর হয় ২ জুন থেকে।
আইন কার্যকর হওয়ার পর নিউ হ্যাম্পশায়ারের সেক্রেটারি অব স্টেট ডেভিড স্ক্যানলান এই পরিবর্তন সম্পর্কে নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন এবং এ নিয়ে একাধিক প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করা হয়। ফলে মাঠপর্যায়ে নতুন নিয়ম অনুযায়ীই প্রস্তুতি চলছিল।
রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল জন ফরমেলা, যিনি একজন রিপাবলিকান, এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘নিউ হ্যাম্পশায়ারের দায়িত্ব হলো তার নির্বাচনের সততা রক্ষা করা এবং নির্বাচনী আইন যেভাবে লেখা হয়েছে, সেভাবেই প্রয়োগ নিশ্চিত করা।’
ফরমেলা আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত এসব আইন রক্ষা এবং শেষ মুহূর্তের আদালতের আদেশে ভোটার ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া ঠেকানোর আমাদের প্রচেষ্টার জন্য গুরুত্বপূর্ণ জয়। আমরা নিউ হ্যাম্পশায়ারের নির্বাচনী আইন ও সেগুলোর দেওয়া সুরক্ষাব্যবস্থা রক্ষা করে যাব।’
তবে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত মামলার মূল বিষয়ে চূড়ান্ত রায় নয়। আইনটি নিয়ে মূল মামলা এখনো চলমান রয়েছে; ফলে শিক্ষার্থী পরিচয়পত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আইনি লড়াই শেষ হয়নি। আপাতত মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিউ হ্যাম্পশায়ারের ভোটারদের শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র দিয়ে ব্যালট সংগ্রহের সুযোগ থাকছে না।






