কুষ্টিয়ায় মসজিদের আলোচনা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত হাতাহাতি, দুই পক্ষের চারজন আহত
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার একটি মসজিদে নামাজ-পরবর্তী আলোচনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আছরের নামাজের পর কুর্শার তারাচাঁদ মণ্ডল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন মসজিদে ঘটনাটি ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন কুর্শা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির জয়নাল আবেদীন ও ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক স্বপন শেখ। আহতদের মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আছরের নামাজ শেষে মসজিদে আলোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে আলোচনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা উত্তেজনায় রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।
মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান জানান, জামায়াতের লোকজন মসজিদের মধ্যে সাধারণ মানুষকে শপথ পড়াচ্ছিল। বিএনপি নেতাকর্মীরা সে সময় তাদের মসজিদে রাজনৈতিক আলোচনা না করার জন্য বলেন। তার দাবি, জামায়াত কর্মীরা বিএনপি কর্মীদের মারধর করে। এতে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
অন্যদিকে মিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির রেজাউল হক জানান, নামাজ শেষে মসজিদে নিয়মিত কোরআন-হাদিসের আলোকে দ্বীনি আলোচনা চলছিল। সেখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা সভা ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
রেজাউল হক বলেন, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ওই দ্বীনি আলোচনায় বাধা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও মারধর করা হয়। এতে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির জয়নাল আবেদীন, জামায়াত কর্মী ইব্রাহিমসহ আরও এক কর্মী আহত হন বলে তিনি জানান।
দুই পক্ষের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, মসজিদে চলা আলোচনাটি রাজনৈতিক ছিল কি না — এই প্রশ্নেই মূলত বিরোধের সূত্রপাত। এক পক্ষ একে রাজনৈতিক তৎপরতা বলছে, অন্য পক্ষ বলছে এটি ছিল নিয়মিত ধর্মীয় আলোচনা।
মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মসজিদে আলোচনা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ওসি বলেন, তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও ওসি জানিয়েছেন। ফলে এই হাতাহাতির ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এখন প্রক্রিয়াধীন।
মসজিদের ভেতরে নামাজের পরের আলোচনা নিয়ে দুই রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের হাতাহাতি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পুলিশের বাড়তি নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।






