ব্রাজিলে ভোটের আগে মেটার হস্তক্ষেপের অভিযোগ: প্রতিদ্বন্দ্বীকে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন লুলার শিবিরের, পাল্টা আবেদন বলসোনারোরও
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বের ভোটের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন করেছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রচার শিবির। অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটা হস্তক্ষেপ করে বলসোনারোর প্রচারকে সুবিধা দিয়েছে।
রোববার অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় দফার ভোটে বামপন্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলার মুখোমুখি হবেন ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো। তার আগেই বুধবার দেশটির শীর্ষ নির্বাচনি আদালতে এই আবেদন জমা পড়েছে।
লুলা শিবিরের অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মালিক মেটা তাদের কনটেন্ট সীমিত করে বলসোনারোর প্রচারকে এগিয়ে দিয়েছে।
জবাবে বলসোনারোও পাল্টা আবেদন করেছেন লুলাকে অযোগ্য ঘোষণার দাবিতে। তাঁর অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপে সরকারি পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মেটা অবশ্য দুই প্রচার শিবিরের সঙ্গে অসম আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বুধবার জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রতিটি প্রচার শিবিরের ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতায় বৈষম্যের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টারের নেতৃত্বে তৈরি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময় অনলাইনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে মেটাকে। প্রতিবেদনে যেসব ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে এক প্রার্থীর প্রচার অ্যাকাউন্টে সাময়িক বাধা, দর্শক সম্পৃক্ততা, ফিড, ভিউ সংখ্যা ও পৌঁছানোর হারে পার্থক্য এবং ওই শিবিরের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বিধিনিষেধ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মেটার কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যসহ বিভিন্ন তথ্য থেকে মনে হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে এক পক্ষের সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্টগুলো অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সীমিত করা হয়েছে।’
মেটা কোনো এক পক্ষকে সুবিধা দিতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, বলসোনারো ও লুলার সঙ্গে সমান আচরণ করতে ব্রাজিলের আদালতের নির্দেশ তারা মেনে চলবে।
এর আগেও লুলার শিবির অভিযোগ করেছিল, বলসোনারো-সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ও কনটেন্টকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ব্যবহারকারীরা এ-ও জানিয়েছেন, মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুলগুলো লুলা-সম্পর্কিত ছবি তৈরি করছিল না। সোমবার সাও পাওলোতে মেটার কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হয়ে লুলার সমর্থকেরা নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন।
ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্টে (টিএসই) বুধবার দায়ের করা আবেদনে লুলার শিবির বলসোনারো এবং তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আলফ্রেদো গাসপারকে ‘অর্থনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুপযুক্ত ব্যবহার’-এর অভিযোগে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। আবেদনে ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর আট বছরের জন্য বলসোনারোকে নির্বাচনে অযোগ্য করারও দাবি রয়েছে।
অন্যদিকে দণ্ডিত সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার’-এর অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, সরকারি ডেটাবেস থেকে নেওয়া ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে সামাজিক কর্মসূচির প্রচারে হোয়াটসঅ্যাপে গণবার্তা পাঠিয়েছে সরকার।
রোববার ভোটে লুলা চতুর্থ মেয়াদের জন্য লড়ছেন। গত ৪ অক্টোবরের প্রথম দফার ভোটে বলসোনারো সামান্য ব্যবধানে লুলাকে হারিয়েছিলেন, তবে সরাসরি জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ বৈধ ভোট পাননি। জনমত জরিপগুলো বলছে, রোববারের দ্বিতীয় দফার লড়াই হবে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি।





