…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আইন ও অপরাধ › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আইন ও অপরাধ

এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ী অপহরণ: চাকরিচ্যুত সেনাসদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬, উদ্ধার টেকনাফ থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি সদস্য পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে চাকরিচ্যুত এক সেনাসদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বাঁশখালী থানা পুলিশ। অপহরণের চার দিন পর কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে অপহৃত ব্যবসায়ীকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অভিযান চালিয়ে অপহরণচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং ব্যবসায়ীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজারে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানের মালিকানাধীন ‘মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’ নামের হার্ডওয়্যারের দোকানে কয়েকজন ব্যক্তি প্রবেশ করেন। তাদের পরনে ছিল কালো পোশাকের ওপর ‘এসআরবি’ লেখা কটি, মাথায় কালো ক্যাপ এবং মুখে মাস্ক।

নিজেদের এসআরবি সদস্য পরিচয় দিয়ে তারা দোকানের ক্যাশে বসে থাকা ব্যবসায়ীকে তার যমজ ভাই মো. হোছাইনের ছবি দেখিয়ে বলেন—তুই হোছাইন। ব্যবসায়ী নিজের পরিচয় দিলেও অভিযুক্তরা তার দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে জোরপূর্বক দোকান থেকে বের করে আনেন। পরে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে বিভিন্ন যানবাহনে স্থানান্তর করে কক্সবাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

অপহরণের দিন রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও দোকানের ব্যবস্থাপকের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ভিওআইপি নম্বর থেকে কল আসতে থাকে। ফোনে অপহরণকারীরা ব্যবসায়ীকে মুক্তি দিতে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় অপহৃত ব্যবসায়ীর ভাই মো. হোছাইনের এজাহারের ভিত্তিতে বাঁশখালী থানায় মামলা হয়। মামলার পর ব্যবসায়ীকে উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ডিবি ও বাঁশখালী থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের দিকনির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান ও ডিবির ওসি মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে একাধিক আভিযানিক দল গঠন করা হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে কক্সবাজার সদর, পেকুয়া, উখিয়া, রামু ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০ অক্টোবর কক্সবাজার সদর থানার বাস টার্মিনাল, বাংলাবাজার ও কোর্টবাজার এলাকা থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য সুমন মুন্সি, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার বাসিন্দা জয়নাল উদ্দিন, উখিয়ার বাসিন্দা মো. আব্বাস উদ্দিন, বাঁশখালীর বাসিন্দা মো. ছলিম ওরফে সেলিম এবং টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬-এর বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২১ অক্টোবর ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে টেকনাফ উপজেলার লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫–সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অপহরণকারীদের হেফাজত থেকে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের সময় অপহরণে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার, কালো রঙের ‘এসআরবি’ লেখা পাঁচটি কটি (জ্যাকেট), দুটি ভুয়া পরিচয়পত্র এবং একটি হ্যান্ডকাফ জব্দ করেছে পুলিশ। জব্দ করা এসব আলামতই ভুয়া পরিচয়ে অপরাধ সংঘটনের কৌশলটি স্পষ্ট করে দেয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য সুমন মুন্সি অতীতে উখিয়া এলাকায় এসআরবিতে কর্মরত থাকাকালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তার চাকরি চলে যায় এবং তিনি কারাভোগ করেন। কারাগারে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়—সেই সূত্র ধরেই ভুয়া এসআরবি পরিচয় ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চক্রের সদস্য আব্বাস উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে সুমন মুন্সিকে তথ্য দিতেন। এরপর সুমন ও তার সহযোগীরা ভুয়া এসআরবি পরিচয়ে লোকজনকে অপহরণ করতেন এবং অপহৃতদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আটকে রেখে স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হতো।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে সুমন মুন্সির বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা ও অস্ত্র আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। জয়নাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপহরণ, চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে তিনটি মামলা, মো. ছলিম ওরফে সেলিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দুটি এবং আব্বাস উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ভূমিকা এবং ভুয়া এসআরবি পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের আরও কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে চক্রটির পুরো চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আইন ও অপরাধ বিভাগের আরও খবর

আইন ও অপরাধ

চাঁদপুরে ৪০০ একর কৃষিজমি দখল করে অবৈধ ঝিল: এমপির নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান, ভেকু জব্দ ও ৩ মামলা

চাঁদপুর সদরের ইব্রাহীমপুরে প্রায় ৪০০ একর কৃষিজমির ওপরের মাটি (টপ সয়েল) কেটে ঝিল তৈরি করে মাছ চাষের নামে দখল ও মাটি বিক্রির অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান চাল…

আইন ও অপরাধ

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসচাপায় ইজিবাইকের দুই যাত্রী নিহত, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসচাপায় ইজিবাইকের দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বরংগা…

আইন ও অপরাধ

‘আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে চাই’: নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফের জন্য দুই জায়গায় মানববন্ধন, মায়ের কান্নায় ভারী পরিবেশ

সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও জেল…

আইন ও অপরাধ

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: সরকারকে জবাব চাইতে ও দৃঢ় প্রতিবাদ জানাতে বলল সিপিবি

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারকে শিরশ্ছেদ করে হত্যার ঘটনায় দেশটির সরকারের কাছে জবাব চাইতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউন…