হামের উপসর্গে দুজনের মৃত্যু, আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়াল
হামের উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে, আর আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক হাজার। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। একটি প্রতিবেদনের হিসাবে নতুন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩১ জন, আরেকটির হিসাবে মোট আক্রান্ত ১ হাজার ৫৮ জন — দুটি হিসাবেই আক্রান্তের সংখ্যা হাজারের ঘর পেরিয়েছে।
মৃত দুজনেরই শরীরে হামের উপসর্গ ছিল বলে প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে। তবে তাঁদের পরিচয়, বয়স কিংবা কোন এলাকায় এই মৃত্যু ও সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদনগুলোতে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এই প্রতিবেদনে শুধু নিশ্চিত তথ্যগুলোই তুলে ধরা হচ্ছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস সহজেই অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে। জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরজুড়ে ফুসকুড়ি বা র্যাশ এই রোগের পরিচিত উপসর্গ।
চিকিৎসকদের সাধারণ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হামে আক্রান্তদের বেশির ভাগই সঠিক যত্নে সেরে ওঠেন, তবে শিশু ও অপুষ্টিতে ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে। তাই আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়ানো এবং দুজনের মৃত্যুর খবর জনস্বাস্থ্যের দিক থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় টিকা। শিশুদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হামের টিকা দেওয়া হলে এই রোগের প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন। টিকাদানের হার কোথাও কমে গেলে কিংবা কোনো এলাকার শিশুরা টিকার আওতার বাইরে থেকে গেলে সেখানে হামের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকলে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য জরুরি হয়ে ওঠে আক্রান্তদের শনাক্ত করা, তাদের আলাদা রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং আশপাশের টিকা-বঞ্চিত শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা। দুজনের মৃত্যুর পর এই তৎপরতা আরও জোরদার হওয়ার কথা।
অভিভাবকদের জন্য সাধারণ পরামর্শ হলো — শিশুর জ্বর ও শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা, আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং শিশুর হামের টিকা সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, তা যাচাই করা। এসব সতর্কতা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সাহায্য করে।
প্রতিবেদন দুটিতে দেওয়া আক্রান্তের সংখ্যায় সামান্য পার্থক্য রয়েছে — একটি হিসাবে ১ হাজার ৩১ জন নতুন রোগী, অন্য হিসাবে মোট আক্রান্ত ১ হাজার ৫৮ জন। সংখ্যা গণনার সময় ও পদ্ধতির ভিন্নতার কারণে এমন পার্থক্য হতে পারে। আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ পরিসংখ্যান পাওয়া গেলে তা এই প্রতিবেদনে যোগ করা হবে।
সার্বিকভাবে, হামের এই প্রকোপ আবারও মনে করিয়ে দিল যে টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা ও পূর্ণ আওতা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে দুজনের মৃত্যু সেই প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে এনেছে।
এখন সবার নজর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দিকে — আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে না কমছে, মৃত্যুর ঘটনার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা কী এবং প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, এসব তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে জনমনে। নতুন তথ্য এলেই এই খবর হালনাগাদ করা হবে।




