মার্কিন দূতের সঙ্গে বৈঠকের পরই রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি বড় হামলা, কিয়েভে আহত ১৫
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও রাশিয়া ও ইউক্রেন রাতভর বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে একে অপরের ওপর। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের কিছু পরই এই হামলাগুলো হলো।
উইটকফ সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকটিকে তিনি ‘গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন, যদিও স্বীকার করেছেন যে ‘গুরুত্বপূর্ণ কাজ’ এখনো বাকি রয়েছে।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎস্কো সামাজিক মাধ্যমে জানান, রুশ হামলায় রাজধানীতে ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, হামলায় পিভদেন্নি সেতুর মেট্রো অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, এতে শহরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী ভোরের প্রথম প্রহরজুড়ে টেলিগ্রামে ‘কিয়েভের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ ও যুদ্ধবিমানের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে বলেছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে বিমানবাহিনী জানায়, রাতভর তারা ১৮১টি রুশ মানববিহীন আকাশযান (ইউএভি) ভূপাতিত করেছে। তবে তখনো আকাশে হামলাকারী ড্রোন রয়ে গেছে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেন, অঞ্চলটির দিকে ধেয়ে আসা ৬৩০টি ড্রোনের বেশিরভাগই প্রতিহত করা হলেও দুজন আহত হয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে ১৬৩টি ড্রোন রাজধানীর দিকে আসছিল।
কূটনৈতিক ফ্রন্টে পুতিন ও উইটকফের বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে দুই পক্ষ ‘আমরা সবচেয়ে কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে, যদিও কোনো বড় অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি।
ক্রেমলিন বলেছে, তারা নীতিগতভাবে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আবার শুরু করতে রাজি—সম্ভবত নভেম্বরের মাঝামাঝি, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর।
ইউক্রেনও নতুন ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পক্ষে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, কিয়েভ যত দ্রুত সম্ভব একটি বৈঠক চায়।
বৈঠকের পর রাশিয়া মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দিতে রাজি হয়। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, যিনি ইউক্রেনের পক্ষে ভাড়াটে সৈন্য হিসেবে যুদ্ধ করার অভিযোগে রাশিয়ায় দণ্ডিত হয়েছিলেন—অভিযোগটি তিনি অস্বীকার করেছেন।
ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রেখেছেন। তিনি বলেছেন, এতে হাবার্ডের মুক্তি নিশ্চিত করতে সাহায্য হয়েছে। একই সঙ্গে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দাম কমাতে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল বিক্রির একটি নতুন চুক্তি করেছেন ট্রাম্প—যা কিয়েভ ও কয়েকটি ইউরোপীয় সরকারের সমালোচনার মুখে পড়েছে।
ফলে মাঠে হামলা-পাল্টা হামলা আর টেবিলে আলোচনার প্রস্তুতি—দুটোই একসঙ্গে চলছে। ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সত্যিই বসে কি না এবং বসলেও কোনো যুদ্ধবিরতির পথ খোলে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





