ব্রাজিলে রান-অফের আগে রেকর্ড প্রকাশ নিয়ে পাল্টাপাল্টি শর্ত: লুলাকে চ্যালেঞ্জ বলসোনারো শিবিরের
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রান-অফের আগে ব্যক্তিগত রেকর্ড প্রকাশ নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শর্তের লড়াই তীব্র হয়েছে। ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার চ্যালেঞ্জের জবাবে কঠিন শর্ত বেঁধে দিয়েছেন।
বলসোনারোর প্রচার শিবির বলেছে, লুলা যে তথ্য চেয়েছেন তা তারা প্রকাশ করবে — তবে শুধু তখনই, যদি প্রেসিডেন্ট নিজের রেকর্ড প্রকাশের প্রতিশ্রুতি আরও বিস্তৃত করেন। সেই বিস্তারের মধ্যে থাকতে হবে তাঁর উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা কর্মীদের রেকর্ড এবং লুলার সন্তানদের মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর রেকর্ডও।
এর আগে মঙ্গলবার লুলা বলেছিলেন, বলসোনারো একই কাজ করতে রাজি হলে তিনি নিজের এবং পরিবারের ব্যাংক, কর ও টেলিফোন রেকর্ড প্রকাশ করবেন। তাঁর প্রচার শিবির প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের জন্য শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন ব্রাজিলের নির্বাচনী আদালতে জমাও দিয়েছে।
লুলার প্রচার শিবিরের প্রতিনিধি ও সিনেটর কামিলো সান্তানা সাংবাদিকদের বলেছেন, লুলা বলসোনারোর নতুন দাবিগুলো মেনে নিয়েছেন এবং প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে আনুষ্ঠানিক জবাব দাখিল করবেন।
এই পাল্টাপাল্টির পেছনে রয়েছে অপমানিত ব্যাংকার ড্যানিয়েল ভোরকারোকে ঘিরে এক বিস্ফোরক দুর্নীতি কেলেঙ্কারি, যার সঙ্গে ব্রাজিলজুড়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম জড়িয়ে পড়েছে। দুই শিবিরই সেই কেলেঙ্কারির ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছে।
জনমত জরিপে লুলার চেয়ে সামান্য এগিয়ে থাকা বলসোনারোর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে — অভিযোগ, তিনি ভোরকারোর কাছ থেকে একটি বিনিয়োগ চেয়েছিলেন, যা দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ছাড়া অর্থপাচারের অভিযোগে আরেকটি পৃথক তদন্তেও তাঁর নাম রয়েছে। বলসোনারো অবশ্য কোনো অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট লুলার সঙ্গেও দুর্নীতি কেলেঙ্কারির সংযোগ টানা হচ্ছে তাঁর ছেলে ফাবিও লুইস লুলা দা সিলভার মাধ্যমে। এই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে — অভিযোগ, তিনি অবৈধভাবে আরেক ব্যবসায়ীকে সরকারের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করেছিলেন।
লুলার বড় ছেলের বিরুদ্ধে পেনশন জালিয়াতির তদন্তে আটক এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগেও তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে। ছেলে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, আর প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তাঁর ছেলের সঙ্গে অন্য যেকোনো নাগরিকের মতোই আচরণ করা হবে।
রবিবারের রান-অফ ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে এই রেকর্ড-প্রকাশ বিতর্ক দুই প্রার্থীর প্রচারের কেন্দ্রে চলে এসেছে। একদিকে স্বচ্ছতার দাবি, অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে শর্তের জালে আটকানোর কৌশল — দুটোই একসঙ্গে চলছে।
নির্বাচনী আদালতে লুলার আনুষ্ঠানিক জবাব জমা পড়লে বোঝা যাবে, এই শর্তের খেলা সত্যিকারের তথ্য প্রকাশে গড়ায়, নাকি ভোটের আগের শেষ দিনগুলোতে তা শুধু প্রচারের অস্ত্র হিসেবেই থেকে যায়।





