সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: জেদ্দা মিশনের অবহেলার অভিযোগ, ঢাকায় জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন
গত সপ্তাহে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। আর সেই ঘটনাকে ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠেছে, তাঁদের বাঁচাতে জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের কোনো কর্মকর্তা সামান্য চেষ্টাও করেছিলেন কি না। সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মিশনের কোনো চেষ্টাই ছিল না; বিপদের সময় আইনি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রবাসে থাকা কূটনীতিকদের চরম অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তার চিত্রটি এই ঘটনায় আবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
খবরে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, দুই নাগরিক যে কারাগারে আটক আছেন, তা মিশন কর্মকর্তারা জানতেন। অর্থাৎ তাঁদের আটকের খবর মিশনের অজানা ছিল না। জানা থাকার পরও ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দিতে চরম ব্যর্থতার কারণেই মূলত এত দ্রুত এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মৃত্যুদণ্ডের মতো চরম শাস্তির ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা, নথিপত্র সংগ্রহ আর কূটনৈতিক তৎপরতাই আটক নাগরিকের শেষ ভরসা। সেই জায়গাতেই ব্যর্থতার অভিযোগ সবচেয়ে গুরুতর। দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে সেই সহায়তা সময়মতো পৌঁছায়নি বলেই অভিযোগ, আর তার পরিণতি হয়েছে অপরিবর্তনীয়।
সরকার বারবার বলছে, তারা রিয়াদের কাছ থেকে আইনি নথিপত্র চেয়েছে। কিন্তু জেদ্দা বা রিয়াদের অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে কি না, কোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা সরকার পরিষ্কার করেনি। ফলে ঘটনাটি শুধু দুই নাগরিকের মৃত্যু নয়, জবাবদিহির প্রশ্নেও বড় হয়ে উঠেছে।
একই খবরে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবের কাছ থেকে ঢাকা এখনো জবাব পায়নি। রিয়াদের নীরবতা আর ঢাকায় জবাবদিহির অভাব, দুই দিক মিলিয়ে প্রবাসে বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর হয়েছে।
প্রবাসে আটক বাংলাদেশিদের জন্য মিশনের আইনি সহায়তা কতটা জরুরি, এই ঘটনা তা আবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। কারাগারে আটক নাগরিকের খোঁজ রাখা, তাঁর মামলার নথি সংগ্রহ করা এবং প্রয়োজনে আইনজীবীর ব্যবস্থা করা মিশনের স্বাভাবিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, নাগরিক সুরক্ষার প্রশ্ন।
অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত: মিশন কবে থেকে দুজনের আটকের কথা জানত, তাদের আইনি সহায়তায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, আর সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগে কোথায় ঘাটতি ছিল। এই প্রশ্নগুলোর জবাব না মিললে ঘটনাটির পূর্ণ চিত্র সামনে আসবে না।
এমন ঘটনায় তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই যায়। প্রবাসে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির কাছে মিশনই রাষ্ট্রের প্রথম ঠিকানা; সেই ঠিকানার সক্রিয়তাই সংকটের মুহূর্তে নাগরিকের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
আপাতত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় রিয়াদের জবাবের অপেক্ষায় আছে ঢাকা, আর একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্নের জবাবও অপেক্ষমাণ। সরকার কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থার কথা জানায় কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।




