ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের পর পোপ লিওর আর চিকিৎসা লাগবে না, জানালেন চিকিৎসকেরা
ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও চতুর্দশের ফুসফুসের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের পর তাঁর আর কোনো অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের পর পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, রোগটি শরীরের অন্য কোথাও ছড়ায়নি।
ভ্যাটিকানের এক বিবৃতিতে পোপের প্রধান সার্জন স্টেফানো মার্গারিটোরা ও তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক লুইজি কারবোনে বুধবার বলেন, ‘পরবর্তী অনকোলজিক্যাল মূল্যায়নে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে আর কোনো থেরাপির প্রয়োজন নেই।’
৭১ বছর বয়সী পোপের ডান ফুসফুসের নিচের অংশ গত ১৩ অক্টোবর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। তাঁর শরীরে ধরা পড়েছিল ফুসফুসের অ্যাডেনোকারসিনোমা, যা ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন।
অস্ত্রোপচারের চার দিন পর শনিবার রোমের জেমেলি পলিক্লিনিক থেকে ছাড়া পান লিও। ভ্যাটিকান জানিয়েছে, তিনি ধীরে ধীরে তাঁর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরবেন। বুধবার তিনি সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে ফিরে তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে সাপ্তাহিক সাক্ষাৎকারেও অংশ নেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফলো-আপ পরীক্ষায় ক্যানসার লসিকাগ্রন্থিসহ অন্য কোথাও ছড়ানোর লক্ষণ পাওয়া গেলে কিংবা রোগটি বিশেষভাবে আক্রমণাত্মক হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেই সাধারণত অতিরিক্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়। ক্যাথলিক নেতার ক্ষেত্রে যেমন হয়েছে, টিউমার খুব প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে প্রায়ই শুধু অস্ত্রোপচারই যথেষ্ট হয়।
রোমের জেমেলি হাসপাতালের প্রধান থোরাসিক সার্জন মার্গারিটোরা শনিবার ভ্যাটিকান নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেন, নিয়মিত পেটের পরীক্ষার সময় হঠাৎ করেই ফুসফুসের ওই গুটিটি (নোডিউল) ধরা পড়েছিল। পোপের তখন কোনো উপসর্গই ছিল না।
হাসপাতালে থাকাকালীনও পোপ তাঁর দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে গেছেন, এমনকি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথাও বলেছেন। অস্ত্রোপচারের পর থেকে ভ্যাটিকানে দুটি জনসমক্ষে উপস্থিতিতে তাঁকে শক্তিশালী দেখা গেছে—সেন্ট পিটার্স স্কয়ারের দিকে মুখ করা জানালা থেকে প্রচলিত রোববারের আশীর্বাদ এবং বুধবারের দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা বিশ্বাসীদের শুভেচ্ছা জানানো।
সাক্ষাৎকারে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে আবেগাপ্লুত পোপ বলেন, ‘ধন্যবাদ! আপনাদের প্রার্থনার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ।’
এদিকে পোপ তাঁর ৬ থেকে ১৭ নভেম্বরের উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও পেরু সফরের প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছেন বলেই মনে হচ্ছে। তাঁর প্রধান সার্জন ভ্যাটিকান নিউজকে বলেছেন, এই সফরে বাধা দেওয়ার মতো ‘কোনো চিকিৎসাগত কারণ নেই’। সফরটিতে এক ডজন বিমানযাত্রা, দুটি হেলিকপ্টার যাত্রা এবং উচ্চভূমিতে থামার সূচি রয়েছে।
চিকিৎসকদের এই ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিক বিশ্বাসীদের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছে। অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত জনজীবনে ফেরা এবং দক্ষিণ আমেরিকা সফরের প্রস্তুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, পোপ লিও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার পথেই রয়েছেন।






