…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › স্বাস্থ্য › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
স্বাস্থ্য

সাড়ে ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ হাজার ২৭ জন, সবচেয়ে বেশি প্রাণ গেছে আঞ্চলিক সড়কে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে দেশে ১৬ হাজার ৪০২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৬ হাজার ২৭ জন এবং আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৫৪৭ জন। অতিরিক্ত গতি, নিয়ন্ত্রণ হারানো আর ভারী যানবাহনের ধাক্কাই এসব প্রাণহানির বড় কারণ।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ভাটারার সাঈদনগর এলাকায় মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন দুই বন্ধু সুমন ও রবিউল। ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন তাঁরা। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন তিনি। দুর্ঘটনায় তাঁর বন্ধু রবিউল (২২) আহত হন। সুমন পেশায় গ্রিলের কাজ করতেন। একই দিন মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা অবস্থায় বাসের ধাক্কায় ইমাম হোসেন নামের আরেকজন নিহত হন।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ হারান সৌদি আরব প্রবাসী হৃদয় (২৭)। সকালে উপজেলার কুচিয়ামোড়া ব্রিজের ঢালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সাজ্জাদ (২৪) নামের আরও এক তরুণ গুরুতর আহত হন। হৃদয় ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর-আব্দুল্লাহপুর গ্রামের বাসিন্দা। চার মাস আগে সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। কয়েক দিনের মধ্যেই কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এক কন্যাসন্তানের জনক হৃদয়ের সেই ফেরা আর হলো না। আহত সাজ্জাদ সিরাজদিখান উপজেলার উত্তর ঘোড়ামারা এলাকার বাসিন্দা।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে এভাবেই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন তরুণ-যুবকরা। অতিরিক্ত গতিতে চালানো, নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং ভারী যানবাহনের ধাক্কায় ঘটছে এসব দুর্ঘটনা। যাত্রী নিয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়াও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাড়ে ছয় বছরের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ৬ হাজার ৩১৪টি বা ৩৯.৩০ শতাংশ ঘটেছে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়। মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটেছে ৫ হাজার ৪৯৭টি বা ৩৪.২১ শতাংশ দুর্ঘটনা। মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটেছে ৩ হাজার ৫৪৮টি বা ২২.৮ শতাংশ দুর্ঘটনা। অন্য কারণে ঘটেছে ৭০৬টি বা ৪.৩৯ শতাংশ দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে পণ্যবাহী যানবাহন, তারা দায়ী ৬ হাজার ৪৮১টি বা ৪০.৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য। মোটরসাইকেল চালক এককভাবে দায়ী ৫ হাজার ৮৩১টি দুর্ঘটনায়, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬.২৯ শতাংশ। বাসের কারণে ঘটেছে ২ হাজার ১৬৪টি বা ১৩.৪৭ শতাংশ, থ্রি-হুইলারের কারণে ৭৩২টি বা ৪.৫৫ শতাংশ, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের কারণে ৪৩৮টি বা ২.৭২ শতাংশ, পথচারীর কারণে ২৯৬টি বা ১.৮৪ শতাংশ এবং বাইসাইকেল ও রিকশার কারণে ১২৩টি বা ০.৭৬ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সড়কের ধরন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে, ৬ হাজার ৬৮৯টি বা ৪১.৬৩ শতাংশ। জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে ৪ হাজার ৭৭৩টি বা ২৯.৭১ শতাংশ, শহরের সড়কে ২ হাজার ৬৪৬টি বা ১৬.৪৭ শতাংশ এবং গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৫৭টি বা ১২.১৮ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। অর্থাৎ শহরের বাইরে, আঞ্চলিক সড়কেই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। তরুণ-যুবকদের অনেকে মোটরসাইকেল চালানোর সময় নিয়মশৃঙ্খলা মানতে চান না। তাদের অনেকের হেলমেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকে না। গাড়ির কাগজপত্র ছাড়াও অনেকে রাস্তায় বের হন। রাস্তায় মোটরসাইকেল থামাতে চাইলে অনেকে ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অতিরিক্ত গতিতে চালানোর কারণে একপর্যায়ে তাঁরা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না, তখনই দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনের কারণে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বাইকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। যাত্রী নেওয়ার পর দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার প্রবণতাও চালকদের মধ্যে দেখা যায়, এটিও দুর্ঘটনার একটি কারণ। মহাসড়কে ফাঁকা রাস্তা পেলে গতি বাড়াতে থাকার প্রবণতা বড় ঝুঁকি তৈরি করে। ঢাকার ৩০০ ফিট পূর্বাচল সড়কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সড়কটি প্রশস্ত এবং যানজট কম থাকায় চালকেরা বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করেন, ফলে সেখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। অথচ ক্যান্টনমেন্টের সড়কে দুর্ঘটনা তুলনামূলক কম ঘটে, কারণ সেখানে মানুষ নিয়ম মেনে চলেন। সড়কে যেকোনো যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে নিয়ম মানা জরুরি, তাহলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা কমানো সম্ভব।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। এর বড় অংশ চালান কিশোর ও তরুণ-যুবকরা। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। চার চাকার যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল প্রায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনাও অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালাতে উৎসাহিত করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাণহানির অন্যতম কারণ হিসেবে মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার না করাকে চিহ্নিত করেছে প্রতিবেদন। গবেষণা অনুযায়ী, মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার করলে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। উন্নত ও সহজলভ্য গণপরিবহনের অভাব এবং তীব্র যানজটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল ব্যবহারে বেশি উৎসাহিত হচ্ছেন, তাতে দুর্ঘটনাও বাড়ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দেশের আয়তনের তুলনায় প্রায় ৮০ লাখ মোটরসাইকেল চলছে এবং দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে। দেশের সড়ক-মহাসড়কে কত মোটরসাইকেল চলতে পারে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো পরিসংখ্যান নেই। বিশ্বের অন্যান্য শহরে গণপরিবহন হিসেবে দ্রুতগামী পরিবহন বা মাস ট্রানজিটের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশে এ ব্যবস্থা কেবল শুরু হয়েছে। তবে জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় আরও অন্তত ১০টি এমন ব্যবস্থা থাকা উচিত। তিনি বলেন, একটি বাসে ৪০ জনের আসন থাকলেও অনেক সময় ৮০ জন যাত্রী ওঠেন। এ কারণে যাত্রীরা বাসে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না, ফলে অনেকে মোটরসাইকেলের দিকে ঝুঁকছেন। এভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষ আলাদা আলাদা মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় চলাচল করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, মোটরসাইকেলসহ যেকোনো যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি সচেতনতা। সড়ক বা মহাসড়কে নিয়ম না মেনে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনা ঘটবেই। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কারণগুলোর মধ্যে রাইড শেয়ারিংও রয়েছে। একজন যাত্রীকে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

দুর্ঘটনা কমাতে আট দফা সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্মত হেলমেট বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক প্রচার, বিটিআরসির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচারণা এবং মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন আনা। পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন চালুর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। সংস্থাটি দুর্ঘটনার পেছনে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ, সচেতনতামূলক কর্মসূচির অভাব, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও নজরদারির ঘাটতি, সহজ গণপরিবহনের অভাব এবং অসহনীয় যানজটকে দায়ী করেছে। মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সতর্কবার্তা, সবাইকে আইনকানুন মেনে চলতে হবে, তা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে, আর সড়কে মৃত্যুর মিছিল দেখতে হবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

স্বাস্থ্য বিভাগের আরও খবর

স্বাস্থ্য

স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে প্রতিদিনের পাতে যা রাখবেন: মাছ থেকে গ্রিন টি—বিশেষজ্ঞের আটটি খাবারের তালিকা

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কেও নানা পরিবর্তন ঘটে। অনেকেই স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা কিংবা পরিচিত কোনো বিষয় …

স্বাস্থ্য

নদীভাঙন আর বদলে যাওয়া আবহাওয়ায় মানিকগঞ্জে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে মানসিক ক্ষতি

নদীভাঙন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি আর বৃষ্টিপাতের অনিয়মে মানিকগঞ্জের মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বাড়ি আর ফসলের ক্ষতি টাকার অ…

স্বাস্থ্য

সঙ্গী চ্যাটজিপিটিতে সম্পর্ক নিয়ে কী লেখেন, তা পড়তে চাওয়া কি বিশ্বাসের প্রশ্ন

সঙ্গী চ্যাটজিপিটিতে আপনাদের সম্পর্ক নিয়ে কী লিখছেন, কী পরামর্শ চাইছেন কিংবা আপনার সম্পর্কে তাঁর মনে কী প্রশ্ন ঘুরছে — এসব জানার আগ্রহ অনেকের মধ্যেই ত…

স্বাস্থ্য

আত্মীয়ের মুখ চেয়ে সন্তানের নিরাপত্তায় আপস নয়: সীমারেখা টানার পরামর্শ মনোবিজ্ঞানীর

পরিবারের কোনো ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হয়তো আপনার সন্তানের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, যা আপনার ভালো লাগে না। কেউ শিশুকে অপমান করেন, কেউ তার সামনে চিৎকার-চেঁচামে�চি ক…