পেলোসির দপ্তরেও সাদা গুঁড়োভরা সন্দেহজনক চিঠি: মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কংগ্রেসজুড়ে আতঙ্ক, তদন্তে এফবিআই
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির দপ্তরে বুধবার পৌঁছেছে সাদা গুঁড়োভরা একটি 'সন্দেহজনক চিঠি'। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কংগ্রেস সদস্যদের লক্ষ্য করে পাঠানো একের পর এক এমন চিঠির ধারাবাহিকতায় এটিই সবশেষ ঘটনা, যা ওয়াশিংটনজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পেলোসির মুখপাত্র জানিয়েছেন, চিঠিটি অন্যান্য কংগ্রেস দপ্তরে পাওয়া চিঠিগুলোর সঙ্গে 'সামঞ্জস্যপূর্ণ', এবং দপ্তরের সবাই নিরাপদ আছেন।
গত কয়েক দিনে রাজনৈতিক মতভেদের ঊর্ধ্বে সব পক্ষ মিলিয়ে তিন ডজনের বেশি কংগ্রেস সদস্যের দপ্তরে সাদা গুঁড়োভরা খাম পৌঁছেছে। একজন আইনপ্রণেতার দপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিক পরীক্ষায় সেই গুঁড়ো ক্ষতিকর নয় বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
শুধু কংগ্রেস নয় — সারা যুক্তরাষ্ট্রে ১০০টির বেশি এ ধরনের সন্দেহজনক চিঠি ডাক ব্যবস্থায় ঘুরছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশজুড়ে নির্বাচনী দপ্তরগুলোতেও একই ধরনের সন্দেহজনক ডাক পাওয়ার খবর এসেছে।
পেলোসির মুখপাত্র নিকোলাস মার্টিন এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'স্পিকার পেলোসি সান ফ্রান্সিসকোর মানুষের সেবায় মনোযোগী আছেন, এবং যেসব সদস্য ও কর্মীর দপ্তরে এমন ঘটনা ঘটেছে, তাঁদের নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'আমেরিকাজুড়ে এই ভীতি ছড়ানোর ধারাবাহিক ঘটনাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল পুলিশ, সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগ ও অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার প্রচেষ্টার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।'
এই ডাক পাঠানোর ঘটনাগুলো তদন্ত করছে এফবিআই, ক্যাপিটল পুলিশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টাল ইনসপেকশন সার্ভিস। এফবিআই নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা বা চিঠির কথা নিশ্চিত করতে রাজি হয়নি।
তবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এফবিআই বলেছে, 'এফবিআই ও যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টাল ইনসপেকশন সার্ভিস দেশজুড়ে বিভিন্ন ঠিকানায় পাঠানো এক ধারাবাহিক সন্দেহজনক ডাকের তদন্ত করছে, যার মধ্যে সেক্রেটারি অব স্টেটের দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী দপ্তর এবং কংগ্রেসের দপ্তরগুলোও রয়েছে।'
ঘটনাগুলোর সময়টাই উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে — মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মুহূর্তে আইনপ্রণেতা ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের একসঙ্গে লক্ষ্য করা হচ্ছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় অন্তত একটি ক্ষেত্রে গুঁড়োটি ক্ষতিকর নয় বলে জানা গেলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি চিঠিকেই গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে।
এখনো পর্যন্ত কোনো চিঠির পেছনে কারা আছে বা কী উদ্দেশ্যে এগুলো পাঠানো হচ্ছে, তা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। এফবিআইসহ সংস্থাগুলোর তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন নজর — বিশেষ করে নির্বাচনের আগের এই স্পর্শকাতর সময়ে এমন ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা ঠেকানো কতটা সম্ভব হয়, সেটাই বড় প্রশ্ন।





