আবাসন সংকটে ফুঁসছে পর্তুগাল: পুলিশের সরিয়ে দেওয়া তাঁবুশিবিরে ফিরলেন হাজারো বিক্ষোভকারী, আটক ৫৫
তীব্র আবাসন সংকটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল পর্তুগাল। রাজধানী লিসবন ও পোর্তো শহরের দুটি কেন্দ্রীয় চত্বরে পুলিশ তাঁবুশিবির সরিয়ে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে ফিরে এসেছেন হাজারো বিক্ষোভকারী। শিবির সরানোর অভিযানে আটক হয়েছেন ৫৫ জন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, কেন্দ্র-ডান সরকারকে এমন একটি বিল প্রত্যাহার করতে হবে, যা উচ্ছেদ সহজ করে এবং নতুন ইজারায় ভাড়ার ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেয়। বিলটি ইতিমধ্যে সংসদে প্রথম পাঠ পেরিয়েছে।
লিসবনের বিক্ষোভকারীরা মঙ্গলবার রসিও স্কয়ারে তাঁদের অবস্থান শিবির আবার গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে পোর্তোর বিক্ষোভকারীরা ফিরছিলেন উত্তরাঞ্চলীয় শহরটির দোম জোয়াও প্রথম স্কয়ারে।
আয়োজকদের হিসাবে, প্রতিটি স্কয়ারে এক হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। লিসবনের রসিও স্কয়ারে শনিবার থেকে অবস্থান করছেন কর্মীরা, সেখানে প্রায় ২০০টি তাঁবু খাটানো হয়েছিল। পোর্তোর স্কয়ারে অবস্থান চলছে প্রায় ১০ দিন ধরে।
লিসবনের রসিও স্কয়ারের বিক্ষোভে যোগ দেওয়া ৪১ বছর বয়সী যোগাযোগ পরামর্শক দেবোরা মিরান্দা বলেছেন, তিনি এসেছেন ক্রমবর্ধমান খরচের চাপে লড়াই করা প্রজন্মগুলোর প্রতিনিধি হয়ে। তাঁর ভাষায়, ‘মানুষ যদি সব অর্থেই নিজের ঘরে থাকার অনুভূতি না পায়, তাহলে তারা জীবনে এগোতে পারে না… যথেষ্ট হয়েছে।’
এই শিবিরগুলো প্রতিবেশী স্পেনের আবাসন বিক্ষোভের ধাঁচে গড়ে উঠেছিল। একই সময়ে ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ চলছে।
ভোর ৬টার কিছু আগে, শিবিরগুলো অবৈধ বলে বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করার পর, দুই শহরেই সমন্বিত অভিযান চালায় পুলিশ। পোর্তোতে বিক্ষোভকারীরা নির্দেশ মেনে নিজেরাই তাঁবু গুটিয়ে ফেলেন। তবে লিসবনের রসিও স্কয়ার সরানোর অভিযানকে শিবিরের মুখপাত্র কার্লা ভালাদাও ‘খুবই আক্রমণাত্মক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট সের্জিও সোয়ারেস সাংবাদিকদের বলেছেন, উচ্ছেদ অভিযান ছিল ‘শান্ত, আনুপাতিক ও যথাযথ, কোনো পুলিশি ধাওয়া ছিল না।’
আটক ৫৫ জনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার লিসবনে আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁদের।
পর্তুগাল ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ আবাসন ক্রয়ক্ষমতা সংকটের একটির সঙ্গে লড়ছে। ২০১৭ সালের পর থেকে বাড়ির ক্রয়মূল্য দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে, আর নতুন ইজারার ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
১৯ বছর বয়সী ইতিহাসের ছাত্র হোর্হে পাইশাও একে বলেছেন ‘একটি সামাজিক সংকট’। তাঁর কথায়, তাঁর প্রজন্মের দরকার ‘মর্যাদা নিয়ে বাঁচার, পরিবার শুরু করার এবং পর্তুগালকে নতুন করে প্রাণবন্ত করার সুযোগ।’
সংকট সবচেয়ে তীব্র বড় শহরগুলোতে। সেখানে অতিরিক্ত পর্যটন এবং দূর থেকে কাজ করে ভ্রমণ করা তথাকথিত ডিজিটাল যাযাবরদের আগমনের বিরুদ্ধেও বিরোধিতা রয়েছে। এখন প্রশ্ন, আদালতের হাজিরা ও নতুন করে গড়ে ওঠা শিবিরের পর সরকার বিলটি নিয়ে অবস্থান বদলায় কি না।






