মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালকে ঘিরে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, আর এই অভিযোগের খবর প্রকাশের পর জেলাজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
হাসপাতালটি মৌলভীবাজার জেলার মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ২৫০ শয্যার এই সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে অসংখ্য রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন, ফলে এর আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে যেকোনো অভিযোগই জনমনে বড় প্রশ্ন তোলে।
অভিযোগের খবরে স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ নাসের রহমানের নামও উল্লেখ রয়েছে। তবে ঠিক কোন খাত থেকে, কবে এবং কার নির্দেশে এই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
সরকারি হাসপাতালের তহবিল মূলত ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, রোগীর সেবা ও হাসপাতাল পরিচালনার কাজে ব্যয় হওয়ার কথা। তাই এত বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠলে সেই অর্থের হিসাব ও খরচের খাত যাচাই করা জরুরি হয়ে পড়ে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন।
জেলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, অভিযোগটির পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত হোক। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অর্থের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলে হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে।
অন্যদিকে অভিযোগটি যদি ভিত্তিহীন হয়, সেটিও যাচাইয়ের মাধ্যমেই পরিষ্কার হওয়া দরকার। কারণ যাচাই ছাড়া অভিযোগ ঝুলে থাকলে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সেবাদানকারীদের মনোবল দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মৌলভীবাজারের মতো প্রবাসী অধ্যুষিত জেলায় সরকারি হাসপাতালই অনেক পরিবারের চিকিৎসার প্রধান ভরসা। বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থে সংসার চললেও বড় অসুখে বেশির ভাগ পরিবারকেই এই হাসপাতালের দিকেই ছুটতে হয়।
ফলে হাসপাতালের আর্থিক স্বচ্ছতা শুধু হিসাবের বিষয় নয়, এটি সরাসরি মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারের সঙ্গেও জড়িত। তহবিলের অর্থ সঠিক খাতে ব্যয় না হলে তার প্রভাব পড়ে ওষুধ ও সেবার মানের ওপর।
এখন সবার চোখ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে। অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা স্বাস্থ্য বিভাগের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এলে পুরো চিত্রটি আরও পরিষ্কার হবে।
বড়লেখা টুডে বিষয়টির পরবর্তী অগ্রগতি, বিশেষ করে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এলে, তা পাঠকদের জানিয়ে দেবে।


