ওহাইওর টোলেডোতে রাসায়নিক ট্যাংক বিস্ফোরণ, এক মাইল এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো প্রায় এক হাজার মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টোলেডো শহরে একটি রাসায়নিক ট্যাংক বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্ত করছেন কর্মকর্তারা। বিস্ফোরণে বাতাসে রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক সরিয়ে নেওয়ার (ইভাকুয়েশন) নির্দেশ দিতে হয়েছে।
এই ঘটনায় একজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন, যিনি একজন ফার্স্ট রেসপন্ডার বা প্রথম সাড়াদানকারী কর্মী। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তবে কর্মকর্তাদের ধারণা, তার আঘাত প্রাণঘাতী নয়। বিস্ফোরণের কারণ এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি কর্মকর্তারা।
এমসি ট্যাংক টার্মিনাল নামের প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী মঙ্গলবার গভীর রাতে বিস্ফোরণের পর ফার্স্ট রেসপন্ডারদের ডাকেন। প্রতিষ্ঠানটি বাল্ক তরল রাসায়নিক পরিবহনে বিশেষায়িত এবং ট্যাংক কনটেইনার পরিবহন, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে।
টোলেডোর মেয়র ওয়েড কাপসুকিয়েভিচ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিস্ফোরণস্থলের এক মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের সরে যেতে হবে এবং তিন মাইলের মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের জানালা বন্ধ রেখে ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, এমসি ট্যাংক টার্মিনালের নির্বাহীরা পরিস্থিতি মূল্যায়নে টোলেডোর পথে রয়েছেন।
কাপসুকিয়েভিচ বলেন, এখানে যা ঘটেছে তার গুরুত্ব তারা বোঝেন। সেই কারণেই তারা এসব পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং সারা দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জনগণকে জানাতে থাকবেন।
বিস্ফোরণে ছড়িয়ে পড়া রাসায়নিকটির নাম গ্লাইসিডিল মেথাক্রিলেট — প্লাস্টিক, রাবার ও রেজিনে ব্যবহৃত একটি শিল্প আবরণ (কোটিং) উপাদান। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, বাতাসে ছড়ানো এই উত্তেজক পদার্থে চোখ, নাক, মুখ ও ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব ও বমি, মাথা ঘোরা বা বিভ্রান্তির মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে জরুরি বিভাগে যেতে বা ৯১১ নম্বরে ফোন করতে বলা হয়েছে বাসিন্দাদের।
মেয়র বুধবারের সম্মেলনে জানান, বিস্ফোরণে ছড়িয়ে পড়ার সময় রাসায়নিকটি গ্যাসে পরিণত হয়েছিল, তবে ট্যাংকে ফিরে জমা হলে তা আবার তরলে রূপ নেবে। তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে সেই পর্যায়ে বিস্ফোরণের ঝুঁকি শেষ হবে এবং বিপদ নিয়ন্ত্রণ ও দূর করার কাজ শুরু করা যাবে।
টোলেডোর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো শহরের ওপর ঘন কুয়াশার মতো আস্তরণ এবং প্লাস্টিকের মতো গন্ধ ছড়িয়ে থাকার খবর দিয়েছে।
মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর হিসাবে প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার মানুষের এই শহরে মঙ্গলবার রাতেই বিস্ফোরণস্থলের আধা মাইলের মধ্যে থাকা প্রায় ৩০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তা বাড়িয়ে পুরো এক মাইল করা হয়, যাতে প্রায় এক হাজার মানুষকে সরতে হয়।
বুধবার নগর কর্মকর্তারা জানান, তাদের জানামতে সব বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে সরিয়ে নেওয়া ও ঘরে আশ্রয়ের নির্দেশ কতদিন থাকবে, তা নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন কাপসুকিয়েভিচ।
সরিয়ে নেওয়ার এলাকার মধ্যে পড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্কুলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পরিকল্পনা জেনে নিতে বলা হয়েছে বাসিন্দাদের। এনবিসি নিউজের খবর অনুযায়ী, বুধবার কয়েকটি স্কুল বন্ধ ছিল এবং অন্যগুলোর কার্যক্রম দেরিতে শুরু হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে এবং বিস্ফোরণের কারণ কী ছিল — তদন্ত শেষ হলে এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে। ততদিন টোলেডোর বাসিন্দাদের কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।



