…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আমেরিকা › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আমেরিকা

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, ঠিক করবে হাতে গোনা কয়েকটি আসন: মানচিত্রে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের এক বড় মোড় ঘনিয়ে আসছে। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটির ভোটাররা ঠিক করবেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের রিপাবলিকান মিত্রদের হাতেই থাকবে, নাকি ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাবে। এই মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে প্রকাশিত মানচিত্র ও বিশ্লেষণ বলছে, লড়াইটা আসলে জমবে হাতে গোনা কয়েকটি আসন ঘিরে।

ভোটারদের মনোভাবের নানা সূচক ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পুনরুদ্ধারে ডেমোক্র্যাটরাই এগিয়ে আছে, আর সিনেটেও তাদের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যেকোনো একটি কক্ষ জিতলেও তা ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় জয় হবে, কারণ তখন তারা ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের এজেন্ডা আটকে দিতে পারবে এবং তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে আরও জোরালো তদন্ত চালাতে পারবে।

সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানদের আসন ১০০টির মধ্যে ৫৩টি, আর ডেমোক্র্যাট ও তাদের মিত্রদের হাতে আছে বাকি ৪৭টি। সিনেটররা ছয় বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হন, তাই প্রতি দুই বছর অন্তর এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়; এবার নভেম্বরে ভোটের মুখোমুখি হচ্ছে ৩৫টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের রিপাবলিকানদের দখলে থাকা অন্তত চারটি আসন ছিনিয়ে নিতে হবে।

তবে বাস্তবে সিনেটের লড়াই সীমাবদ্ধ খুব ছোট একটি মানচিত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিদ্ধ নির্বাচনী পূর্বাভাস সংস্থা কুক পলিটিক্যাল রিপোর্ট এই মুহূর্তে সাতটি আসনকে 'টসআপ' বা অনিশ্চিত হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে—আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও ও টেক্সাস। এছাড়া নিউ হ্যাম্পশায়ার ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকে আছে, আর সাউথ ক্যারোলাইনা ঝুঁকছে রিপাবলিকানদের দিকে।

২০২৬ সালের শুরুতে সিনেটের লড়াইয়ে রিপাবলিকানরাই সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। কিন্তু বছরের ধারায় ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় কুকসহ প্রধান পূর্বাভাস সংস্থাগুলো বেশ কয়েকটি আসনের হিসাব ডেমোক্র্যাটদের অনুকূলে বদলে দিয়েছে। এর বড় উদাহরণ জর্জিয়া, যেখানে এখন ডেমোক্র্যাটদের জয় সম্ভাব্য বলে ধরা হচ্ছে।

ডেমোক্র্যাটদের গতির আরেকটি ইঙ্গিত টেক্সাস। দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান ঘাঁটি এই রাজ্য এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে পড়েছে, আর সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী খুব সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। টেক্সাসে জয় ডেমোক্র্যাটদের জন্য হবে ঐতিহাসিক—১৯৮৮ সালের পর থেকে এই রাজ্য থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জেতেননি, আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে টেক্সানরা শেষবার ডেমোক্র্যাটকে ভোট দিয়েছিলেন সত্তরের দশকে জিমি কার্টারের আমলে। ২০২৪ সালেও ট্রাম্প এখানে ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়ে কামালা হ্যারিসের ৪২ শতাংশকে পেছনে ফেলেছিলেন।

টেক্সাসের আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্য প্রতিনিধি জেমস তালারিকো। সম্পদের বৈষম্যকে সামনে এনে তিনি ধনকুবেরদের ওপর বেশি কর আরোপের ডাক দিয়েছেন; তাঁর প্রচারের স্লোগান, 'এবার টেবিল উল্টে দেওয়ার সময় এসেছে।' অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে তুলে ধরছেন। ওভাল অফিসে ধারণ করা এক ভিডিওতে ট্রাম্প তাঁকে সমর্থন জানিয়ে সীমান্ত রক্ষায় তাঁর কাজের প্রশংসা করেছেন, জবাবে প্যাক্সটন বলেছেন, 'ধন্যবাদ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আমরা আপনাকে হতাশ করব না।'

মিশিগানেও একই রকম হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। অবসরে যাওয়া এক ডেমোক্র্যাটের আসনে রিপাবলিকান মাইক রজার্সের মুখোমুখি প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট আব্দুল এল-সায়েদ, যাঁকে সমর্থন দিয়েছেন কামালা হ্যারিস ও বার্নি স্যান্ডার্সের মতো নেতারা। জরিপে এল-সায়েদ সামান্য এগিয়ে আছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দোদুল্যমান রাজ্য হলেও সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের দীর্ঘ ইতিহাস আছে মিশিগানে—১৯৯৪ সালের পর কোনো রিপাবলিকান এখানে সিনেট আসন জিততে পারেননি। সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সায়েদের প্রচারের প্রাণ 'মেডিকেয়ার ফর অল'—বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্য কর্মসূচি সব আমেরিকানের জন্য সম্প্রসারণের দাবি। জরিপ বলছে, মিশিগানের প্রায় অর্ধেক ভোটার এই ধারণার পক্ষে, যদিও বড় একটি অংশের বিরোধিতাও আছে।

আইওয়াও ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। বারাক ওবামাকে দুবার ভোট দেওয়া এই রাজ্য পরে অনেকটাই রিপাবলিকান হয়ে গেছে এবং ২০০৮ সালের পর এখানে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। এবার জরিপে ইঙ্গিত মিলছে, ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকান অ্যাশলে হিনসন ও ডেমোক্র্যাট জশ তুরেকের মধ্যে চলছে ঘাড়ে ঘাড়ে লড়াই। কৃষকভিত্তি ধরে রাখতে হিনসন বছরজুড়ে বেশি জৈবজ্বালানি-মিশ্রিত গ্যাসোলিন বিক্রির পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন, যা জ্বালানির দাম কমানোর পাশাপাশি কৃষকদের আয় বাড়াতে পারে। অন্যদিকে তুরেক হুইলচেয়ার বাস্কেটবলে দুবারের প্যারালিম্পিক স্বর্ণজয়ী; সম্প্রতি তিনি ওবামার সঙ্গে বাস্কেটবল খেলার একটি প্রচার ভিডিও প্রকাশ করেছেন।

হাউসের চিত্রটাও কম নাটকীয় নয়। দুই বছরের মেয়াদের কারণে হাউসের প্রতিটি আসনেই এবার ভোট হচ্ছে, আর বর্তমানে এই কক্ষটিও রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। তবে হাউস নির্বাচনের ওপর ছায়া ফেলেছে নজিরবিহীন রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস—গত বছর ট্রাম্প সীমানা পুনর্নির্ধারণের লড়াই শুরু করার পর নয়টি রাজ্য কংগ্রেসের আসনসীমানা নতুন করে এঁকেছে, কোনোটি ডেমোক্র্যাটদের সুবিধায়, কোনোটি রিপাবলিকানদের। বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, সব মিলিয়ে রিপাবলিকানরাই বেশি আসনে লাভবান হবে। এসব পুনর্বিন্যাস নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জও হয়েছে—ভার্জিনিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের পক্ষের সীমানা রাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে, আবার মিসৌরিতে রিপাবলিকানদের চেষ্টা আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।

তবু হাউস দখলের আশা ছাড়েনি ডেমোক্র্যাটরা। কুক রিপোর্ট ৪০টির বেশি হাউস আসনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে; সেগুলোর প্রায় অর্ধেক জিতলেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাবে তারা। নিউইয়র্ক শহরের শহরতলিতে রিপাবলিকান মাইক ললার তৃতীয় মেয়াদের জন্য লড়ছেন সমাজতান্ত্রিক মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে ভোটারদের সোচ্চার করে। ওহাইওতে ১৯৮৩ সাল থেকে প্রতিনিধিত্ব করা মার্সি ক্যাপ্টার—কংগ্রেসে নারীদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদের রেকর্ডধারী—নতুন সীমানায় আরও রিপাবলিকান-ঝোঁকের আসনে পুনর্নির্বাচনের কঠিন পরীক্ষায় আছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আসনে রিপাবলিকান ডেভিড ভালাদাওয়ের ভোট দেওয়া ট্রাম্প-সমর্থিত 'ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল' বড় ইস্যু—ধনী ও কর্পোরেশনের করছাড় বাড়িয়ে দরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের মেডিকেইড কর্মসূচি কাটছাঁট করা ওই আইনের প্রভাব তাঁর এলাকায় তীব্র, কারণ সেখানে মেডিকেইড গ্রহীতার হার দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।

শেষ পর্যন্ত যে দলই হাউস জিতুক, সংখ্যাগরিষ্ঠতা এক অঙ্কের ব্যবধানেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে—যেমনটি রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রে গত চার বছর ধরে দেখা যাচ্ছে। আবার ২০২৪ সালে ট্রাম্প বড় ব্যবধানে জেতা আসনগুলোতেও ডেমোক্র্যাটদের 'নীল ঢেউ' উঠতে পারে। ইতিহাস অবশ্য ক্ষমতার বাইরের দলের পক্ষেই কথা বলে—সাম্প্রতিক সব প্রেসিডেন্টই মধ্যবর্তী নির্বাচনে কোনো না কোনো কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন, ট্রাম্পও হারিয়েছিলেন ২০১৮ সালে।

জরিপগুলো বলছে, ভোটের আগে দেশজুড়ে ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝোঁক বেড়েছে—এমনকি রিপাবলিকান-প্রধান রাজ্যগুলোতেও। দলভিত্তিক ভোটের ইচ্ছা মাপার 'জেনেরিক ব্যালট' জরিপে ডেমোক্র্যাটরা উচ্চ এক অঙ্ক থেকে নিম্ন দুই অঙ্ক পর্যন্ত ব্যবধানে এগিয়ে। এই পরিবর্তনের পেছনে ইরান যুদ্ধ ও তার জেরে বেড়ে যাওয়া মূল্যস্ফীতি, বিশেষ করে গ্যাসোলিন ও ডিজেলের দাম বড় ভূমিকা রাখছে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রধান আসনগুলোতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা প্রচার চালাচ্ছেন জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি সামনে রেখে, কারণ জরিপে অর্থনীতিকেই ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে আসতে দেখা যাচ্ছে। ৩ নভেম্বরের ভোটেই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে, এই ঝোঁক আসনের হিসাব বদলে দিতে পারে কি না।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আমেরিকা বিভাগের আরও খবর

আমেরিকা

কারাগারে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের চিকিৎসা বন্ধের নীতি স্থগিতই থাকল সুপ্রিম কোর্টে

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বুধবার রায় দিয়েছেন যে ফেডারেল কারাগারগুলোতে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের লিঙ্গ-নিশ্চিতকরণ চিকিৎসা আপাতত চালিয়ে যেতেই হবে ট্…

আমেরিকা

সাইলোসাইবিন কি প্রদাহের বিরুদ্ধেও কাজ করে? মানবদেহে গবেষণায় আশার সংকেত

সাইলোসাইবিন ও এলএসডির মতো ক্লাসিক সাইকেডেলিক নিয়ে গবেষণা এত দিন মূলত মস্তিষ্ককেন্দ্রিক ছিল—চেতনার গভীর পরিবর্তন আর মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘস্থায়ী প্র…

আমেরিকা

বাসায় অভিযানের এক সপ্তাহ পর প্রকাশ্যে ইলহান ওমর, ভিডিওতে চাইলেন অর্থসহায়তা

ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজের বাসায় ফেডারেল অভিযানের এক সপ্তাহের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর। মঙ্গলবার রাতে…

আমেরিকা

যুদ্ধ আর অবরোধের মধ্যেও চলছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি: কাতারের সতর্কবার্তা, তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, হরমুজে ড্রোন ধ্বংসের দাবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে এই …