পূর্ব ফ্রান্সে মিরাজ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, অন্তত একজনের মৃত্যু, আরেক ক্রু সদস্যের খোঁজে তল্লাশি
ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলে দেশটির বিমানবাহিনীর একটি মিরাজ ২০০০ডি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ফরাসি সশস্ত্র বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। দুর্ঘটনার পর এক ক্রু সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা গেলেও দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের খোঁজে তল্লাশি তখনও চলছিল।
সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমানটি একটি মিশন শেষে ঘাঁটিতে ফিরছিল। মঙ্গলবার গভীর সন্ধ্যায় পূর্ব ফ্রান্সে এটি বিধ্বস্ত হয়। ফেরার পথে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
বিধ্বস্ত বিমানটিতে দুজন ক্রু সদস্য ছিলেন—একজন যুদ্ধবিমান পাইলট এবং একজন ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার। দুজনেই ফরাসি বিমান ও মহাকাশ বাহিনীর সদস্য। তাদের একজনের মরদেহ উদ্ধারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে খুঁজে বের করতে দুর্ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলছিল বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তিনি জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়া নাকি অন্য কোনো কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হলো, তদন্তেই তা বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মিরাজ ২০০০ডি ফরাসি বিমানবাহিনীর একটি সুপরিচিত যুদ্ধবিমান। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মূলত ভূমিতে আক্রমণ চালানোর মিশনের জন্য বিশেষায়িত। দুই আসনের এই বিমানটি জটিল পরিবেশে অভিযান পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি।
বিমানটি প্রচলিত বিমান অভিযান এবং শক্তি প্রদর্শনমূলক মিশনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধরনের বিমান প্রায়ই আকাশে ওঠে।
শান্তিকালীন সময়ে প্রশিক্ষণ বা মিশন-ফেরত পথে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা যেকোনো বিমানবাহিনীর জন্যই বড় ধাক্কা। ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তোলে।
ফরাসি সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, তল্লাশি ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য জানানো হবে। নিখোঁজ ক্রু সদস্যের ভাগ্যে কী ঘটেছে, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।




