জামালপুরে শিশু মরিয়ম হত্যা: ৪০ দিনেও অভিযোগপত্র জমা হয়নি, ডিএনএ প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পরিবার
জামালপুরের মাদারগঞ্জে শিশু মরিয়ম বুশরাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার ৪০ দিন পেরিয়ে গেলেও আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়নি পুলিশ। ফলে বিচার শুরুর অপেক্ষাতেই দিন কাটছে নিহত শিশুটির পরিবারের।
মামলার দুই আসামি জামিনুর ও তার স্ত্রী সবুজা বেগম কারাগারে রয়েছেন। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার পরও অভিযোগপত্র আটকে আছে — পুলিশ বলছে, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়ায় জমা দিতে দেরি হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে বিদ্যালয়ে যেতে বাড়ি থেকে বের হন মরিয়ম। পথে এক বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে সেখানে থাকা জামিনুরের সঙ্গে দেখা হয় তার।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, একপর্যায়ে জামিনুর শিশুটিকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ গোপন করতে ঘরের মেঝেতে গর্ত করে মাটিচাপা দেন বলে তদন্তে বলা হয়েছে।
মরিয়ম বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তারা। একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়ার খবরে এলাকাজুড়েও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
১২ সেপ্টেম্বর পুলিশ তথ্যদাতার মাধ্যমে জামিনুরের বাড়িতে মরদেহ থাকার খবর পায়। পরে জামিনুরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় জামিনুরের স্ত্রী সবুজা বেগমকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুজনকে আদালতে পাঠানো হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেই জবানবন্দির পর পরিবার আশা করেছিল, বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগোবে।
কিন্তু সেই আশা এখন অপেক্ষায় বদলে গেছে। মরিয়মের মা ববিতা বেগম বলেন, ঘটনার এক মাস ১০ দিন পেরিয়ে গেছে, এখনো বিচার শুরু হয়নি। পুলিশের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেছেন তারা।
ববিতা বেগমের ভাষায়, পুলিশ বলছে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারছে না। কবে প্রতিবেদন জমা দেবে, সেটিও স্পষ্ট করে বলছে না। আসামিরা হত্যার কথা স্বীকার করার পরও দেরি হচ্ছে কেন — এই প্রশ্নই ঘুরছে পরিবারের মনে।
মরিয়মের বাবা বাহাদুর বলেন, ‘আমার মেয়েকে হত্যার সর্বোচ্চ বিচার চাই। জামিনুর ও সবুজার ফাঁসি হলে কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পাব। এখনো বিচার শুরু হয়নি। কবে শুরু হবে, তা-ও জানতে পারছি না।’
জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. হারুনুর রশিদ বলেন, মরিয়মের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন থানায় পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষা পুলিশ সরাসরি ঢাকায় করায় এ বিষয়ে বিস্তারিত পুলিশই বলতে পারবে।
জামালপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা বলেন, মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। এখন শুধু ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। প্রতিবেদন পেলেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, দ্রুত প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। মামলার দুই আসামিই কারাগারে রয়েছেন এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন — এই তথ্যও তিনি নিশ্চিত করেন।
সব প্রস্তুতি থাকার পরও একটি প্রতিবেদনের জন্য থমকে আছে পুরো প্রক্রিয়া। ডিএনএ প্রতিবেদন হাতে এলেই অভিযোগপত্র জমা পড়বে বলে পুলিশ জানিয়েছে — সেই দিনটি কবে আসবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে মরিয়মের পরিবার।




