পূজার ছুটিতে পর্যটকের ঢল মৌলভীবাজারে, হোটেল-রিসোর্টে শতভাগ বুকিং
শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে মৌলভীবাজারে। শরতের সুন্দর আবহাওয়ায় প্রকৃতিপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে জেলার পর্যটন স্পটগুলো। চা বাগান, লেক আর সবুজ পাহাড়ের টানে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
পর্যটকেরা নিজেদের পছন্দের স্থান ঘুরে দেখার পাশাপাশি এই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রিয়জনের সঙ্গে ছবি তুলে ক্যামেরাবন্দি করে রাখছেন। জেলার পরিচিত স্পটগুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড় লেগেই থাকছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত রিসোর্ট মালিকরা জানান, গত কয়েক দিনে জেলার বাইরে থেকে প্রচুর পর্যটক এসেছেন। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের কক্ষগুলো শতভাগ বুকিং রয়েছে — অর্থাৎ এই ছুটির মৌসুমে মৌলভীবাজারে এসে তাৎক্ষণিক কক্ষ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার শ্রীমঙ্গলের চা বাগানে কথা হয় নারী পর্যটক মেধার সঙ্গে। তিনি বলেন, সবুজের মাঝে এসে খুব ভালো লাগছে। তাঁদের হৃদয় জুড়ে আছে মৌলভীবাজার — সফরের আনন্দ প্রকাশে এমন মন্তব্যই করেন তিনি।
মাধবপুর লেকে ঢাকা থেকে আসা আরেক পর্যটক বুরহান বলেন, ইট-পাথরের শহর থেকে চায়ের রাজ্যে এসে খুব ভালো লেগেছে। এখানে পাহাড়ের পাদদেশে রয়েছে নীল পদ্মের লেক, যা তাঁর কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
কিশোরগঞ্জ থেকে প্রথমবারের মতো এসেছেন অন্তিকা ঘোষ। তিনি বলেন, তাঁর একসঙ্গে দুই কাজ হয়েছে — পূজা দেখা হলো, সঙ্গে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া, বধ্যভূমি ৭১ ও মাধবপুর লেকসহ বেশ কিছু চা বাগান দেখা হয়েছে। যত দেখছেন তত ভালো লাগছে বলেও জানান তিনি।
টাঙ্গাইল থেকে আসা পান্থ নামে এক যুবক বলেন, শ্রীমঙ্গলকে সবুজ চা বাগান ঘিরে রেখেছে। তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেড়াতে গেছেন, তবে এখানকার মতো এমন সুন্দর দৃশ্য কোথাও দেখেননি। এখানে এসে তাঁর খুব ভালো লেগেছে বলেও জানান তিনি।
পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, টানা ছুটিতে মৌলভীবাজারে যথেষ্ট পরিমাণ পর্যটক আসছেন। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে প্রায় শতভাগ কক্ষ বুকিং রয়েছে। তবে এখানে বিভিন্ন উৎসবের সময় যে পরিমাণ পর্যটক আসেন, সে তুলনায় সরকারিভাবে তেমন কিছুই গড়ে ওঠেনি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
সেলিম আহমেদের এই মন্তব্য মৌলভীবাজারের পর্যটন অবকাঠামো নিয়ে পুরোনো প্রশ্নটাই আবার সামনে এনেছে। প্রতি উৎসবের ছুটিতেই পর্যটকের ভিড় প্রমাণ করে এই জেলার আকর্ষণ কতটা; কিন্তু সেই অনুপাতে সরকারি উদ্যোগে সুযোগ-সুবিধা গড়ে না ওঠায় বেসরকারি খাতের ওপরই ভর করে চলছে পুরো পর্যটন ব্যবস্থা।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে মৌলভীবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য যৌথভাবে এসআরবি, বিজিবি ও পুলিশ রাতদিন কাজ করছে। এখনো কোথাও কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাঁরা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
ছুটির বাকি দিনগুলোতেও পর্যটকের এই ভিড় অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা। শতভাগ বুকিংয়ের এই চিত্র স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও, অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে পর্যটন খাতের দাবি পূরণে এখন নজর দেওয়ার সময় এসেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



