দক্ষিণ কোরিয়ার চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বাংলাদেশ, সিউলে প্রতিমন্ত্রী নুরের তাগিদে কর্মীর সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ
দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ, যোগ্য ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। কোরিয়ায় বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ বাড়ানো ও কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে সিউলে ধারাবাহিক বৈঠকে তিনি এই তাগিদ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া (এনইএসএ) এবং কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়ার (সিএকে) প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দুই সংস্থার সঙ্গেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কোরিয়ার শ্রমবাজারে আরও বড় জায়গা তৈরি করা।
প্রতিমন্ত্রী এনইএসএ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কাজের সুযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। ইপিএস হলো সেই ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিদেশি কর্মীরা কোরিয়ার বিভিন্ন খাতে নিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।
শিল্প ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার অসামান্য সাফল্যের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরিয়ার স্থানীয় শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ, যোগ্য ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অর্থাৎ কোরিয়ার নিয়োগদাতাদের যে ধরনের দক্ষতা দরকার, সেই অনুযায়ী কর্মী প্রস্তুত করে পাঠাতে বাংলাদেশ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলেই তাঁর বার্তা।
বৈঠকে শুধু নিয়মিত কর্মসংস্থান নিয়েই আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রতিমন্ত্রী নিয়মিত কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মৌসুমি কর্মসংস্থান, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, কোরীয় ভাষা শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মতো নতুন ক্ষেত্রগুলোতে যৌথ সহযোগিতার আহ্বান জানান। এসব ক্ষেত্র খুললে কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের যাওয়ার পথ আরও বিস্তৃত হবে।
সভায় এনইএসএর পক্ষ থেকে কোরীয় ভাষা শিক্ষা, পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতায় বাংলাদেশি কর্মীদের অবদান ও সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। অর্থাৎ কোরীয় পক্ষ থেকেও বাংলাদেশি কর্মীদের সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ইতিবাচকভাবে দেখা হয়েছে।
আলোচনায় একটি ব্যবহারিক বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পায় — কর্মীরা বিদেশে যাওয়ার আগেই যেন কোরীয় ভাষার ব্যবহারিক দক্ষতা ও কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ পেয়ে যান। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যাতে কর্মীরা কোরিয়ার কাজের পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।
ভাষা ও কাজের প্রশিক্ষণ আগে থেকে থাকলে কর্মীর জন্য নতুন দেশে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়, নিয়োগদাতার জন্যও কর্মীকে কাজে লাগানো সহজ হয়। সিউলের বৈঠকে এই প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়ায় বোঝা যাচ্ছে, শুধু কর্মী পাঠানোর সংখ্যা নয়, পাঠানো কর্মীর মান ও টিকে থাকার সক্ষমতাকেও দুই পক্ষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকটির তাৎপর্য আলাদা — নির্মাণ খাত কোরিয়ার অন্যতম বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র, আর এই খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা থাকে প্রায় সারা বছরই। এই সংস্থার সঙ্গে আলোচনা মানে নির্মাণ খাতেও বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ভূমিকা বিশাল, আর দক্ষ কর্মী পাঠানো গেলে আয়ও বেশি হয়, কর্মীর নিরাপত্তা ও মর্যাদাও বাড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত শ্রমবাজারে সুযোগ বাড়লে তা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আয়ের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনেরও বড় সুযোগ তৈরি করবে।
প্রতিমন্ত্রীর সিউল সফর ও এই বৈঠকগুলোর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ বাড়ানোর একটি সুস্পষ্ট উদ্যোগ সামনে এল। এখন দেখার বিষয়, ইপিএসের আওতায় সুযোগ বাড়ানো, মৌসুমি কর্মসংস্থান ও যৌথ প্রশিক্ষণের এই আলোচনা বাস্তবে কতটা রূপ নেয় এবং তার সুফল কত দ্রুত কর্মীদের কাছে পৌঁছায়।






