ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও পাঁচজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩৬৬ জন
দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এই মৃত্যুগুলো ঘটেছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৬৬ জন, ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ আবারও বেড়েছে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩৫৭ জন। আর চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৩১৬ জন।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার ভর্তির হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী এসেছেন ঢাকা বিভাগ থেকে। দুই সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪১৫ জন, যা এক দিনের মোট ভর্তির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ১৪১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১৩ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১০ জন নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বাকি বিভাগগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১০৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮০ জন, রংপুর বিভাগে ৭২ জন এবং সিলেট বিভাগে ১১ জন। অর্থাৎ রাজধানীকেন্দ্রিক চাপের পাশাপাশি দেশের প্রায় প্রতিটি বিভাগেই ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে।
এ বছরের সার্বিক হিসাবে উপকূলীয় খুলনা বিভাগের পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৯০৯ জন, যা দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ আঞ্চলিক সংখ্যা।
মৃত্যুর হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। রাজধানীর দক্ষিণ অংশে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৯৯ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে।
এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মারা গেছেন ৪৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩২ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৭ জন, দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগে ২৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুর বিভাগে ৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন।
সংখ্যাগুলো বলছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন আর কোনো একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই; রাজধানী, উপকূল ও উত্তরাঞ্চল — সবখানেই রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রতিদিনই নতুন রোগী ও মৃত্যুর খবর আসছে। বছরের মোট মৃত্যু ৩৫৭ জনে পৌঁছানোয় পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৫ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়ছে। তবে ভর্তি হওয়া রোগীদের বড় অংশই — ১ লাখ ৯ হাজারের বেশি মানুষ — চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, যা চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিদিনের প্রতিবেদনে ডেঙ্গুর সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরছে। আগামী দিনগুলোতে ভর্তি ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বগতি থামে কি না, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি; কারণ প্রতিদিনের সংখ্যাই বলে দেবে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসছে, নাকি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।




