রাশিয়ায় বন্দি একাধিক আমেরিকানকে মুক্তির চুক্তির কাছাকাছি ওয়াশিংটন
রাশিয়ায় আটক থাকা একাধিক আমেরিকান নাগরিককে মুক্ত করার একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। দুজন মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্র এবিসি নিউজকে জানিয়েছে, মস্কোর সঙ্গে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। সূত্রগুলো বলছে, চুক্তির শর্তগুলো ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ৭২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্টিফেন হাবার্ড। তিনি রাশিয়ায় আটক থাকা একমাত্র আমেরিকান, যাকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে 'অন্যায়ভাবে আটক' হিসেবে ঘোষণা করেছে।
হাবার্ডের পাশাপাশি আরও কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে সন্দেহজনক অভিযোগে মামলা দিয়ে আটক রাখা হয়েছে।
তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, শর্তগুলো চূড়ান্ত রূপ নিলেও এখনো কিছুই নির্ধারিত নয়। চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত নাও হতে পারে, কিংবা এর পরিধি বদলে যেতে পারে।
একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে উইটকফের মস্কো সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে নরওয়ের অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।
সোমবার রাশিয়ার সঙ্গে নিজের লেনদেন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন একজন বন্দিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন, 'যাকে ফেরাতে দেশ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছে'—ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হাবার্ডের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, 'দেখা যাক কী হয়। সেটা শিগগিরই হবে।'
মঙ্গলবার সম্ভাব্য বন্দিবিনিময় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেন, 'এসব বিষয়ে সংলাপ গোয়েন্দা সংস্থার চ্যানেলের মাধ্যমে চলমান রয়েছে।' হাবার্ডের নামটি তার কাছে 'অবশ্যই পরিচিত' বলে জানালেও এ বিষয়ে তার 'কিছু জানানোর নেই' বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিনিময়ে রাশিয়া কী পেতে পারে, তাও এখনো স্পষ্ট নয়।
তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প মস্কোর জন্য অনুকূল হিসেবে দেখা হয় এমন কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে গত মাসে তার স্বাক্ষরিত একটি আইনে বাধ্যতামূলক করা রুশ কর্মকর্তা ও ধনকুবেরদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করা, যেটি কংগ্রেসে ব্যাপক সমর্থন পেয়ে পাস হয়েছিল।
একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের ওপর চাপও বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। এসব পদক্ষেপের সঙ্গে বন্দিমুক্তির আলোচনার সম্পর্ক আছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
বর্তমানে রাশিয়ার হেফাজতে অন্তত আটজন আমেরিকান রয়েছেন। আলোচনা সফল হলে তাদের মধ্যে কয়েকজনের মুক্তি মিলতে পারে—তবে চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সবকিছুই সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে।




