বেনাপোলে ফ্লেভারের চালানের আড়ালে পণ্য খালাসের চেষ্টা, ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ
বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণার একটি চালানের আড়ালে বিপুল পরিমাণ ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য খালাসের চেষ্টা ধরা পড়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ চালানে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।
কাস্টমস সূত্রে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জানা গেছে, রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে বন্দরের ১৪ নম্বর শেডের সামনে থেকে একটি কাভার্ড ভ্যানসহ এসব পণ্য জব্দ করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের গোয়েন্দা সংস্থা আইআরএম এই অভিযান চালায়।
ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রেড গ্রিন ইন্টারন্যাশনাল ভারত থেকে ২৫ প্যাকেজে ৫০০ কেজি বাটার ফ্লেভার আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স আহাদ এন্টারপ্রাইজ।
প্রাথমিক কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের মিল পাওয়ার পর পরীক্ষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী চালানটির শুল্কায়ন সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু পরে ঘোষিত ফ্লেভারের সঙ্গে অতিরিক্ত পণ্য খালাসের গোপন সংবাদ পায় কাস্টমস।
অভিযানে ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৬৫৪১ নম্বরের কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হয়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, গাড়িচালক ও বন্দরের শ্রমিকদের উপস্থিতিতে ভ্যানের তালা খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে রয়েছে মোট ৬৭টি প্যাকেজে বিভিন্ন পণ্য।
জব্দ পণ্যের তালিকা দীর্ঘ। এর মধ্যে রয়েছে ২৫টি প্লাস্টিক জারে ৫০০ কেজি ফ্লেভার, ২৫ কার্টনে ১ লাখ ৯৪ হাজার পিস ডিসপোভান সিরিঞ্জ, দুই কার্টনে ১১০ দশমিক ৭৭ কেজি ইমিটেশন পণ্য এবং আটটি ড্রামে ২০০ কেজি পাউডার।
এ ছাড়া পাঁচ কার্টনে পাওয়া গেছে ৩০৩টি শাড়ি, ১৪টি ওড়না, ১০টি কামিজ, ৯টি সালোয়ার, ৩৮টি থ্রিপিস, ১৭৯টি টি-শার্ট ও ১২২টি প্যান্ট। ঘোষিত পণ্য ছিল শুধুই ফ্লেভার—বাকি সবই ঘোষণাবহির্ভূত।
কাস্টমস সূত্র আরও জানায়, ঘোষণাবহির্ভূত পণ্যগুলো এর আগে বন্দরের ১২ নম্বর শেড থেকে কাভার্ড ভ্যানে তোলা হয়েছিল। অর্থাৎ শেড বদলে পণ্য সরানোর কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দাবি, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ফাঁকির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মেসার্স আহাদ এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘোষিত ফ্লেভারের সঙ্গে থাকা ঘোষণাবহির্ভূত পণ্যসহ কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হয়। তিনি বলেন, 'এ চালানে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।'
বেনাপোল দেশের অন্যতম প্রধান স্থলবন্দর। ভারতের সঙ্গে স্থলবাণিজ্যের বড় অংশই এই বন্দর দিয়ে হয়। এমন বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য খালাসের চেষ্টা সরকারের রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্যও ক্ষতিকর।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হয় এবং সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের শনাক্ত করা যায় কি না, সেদিকে এখন নজর থাকবে।




