মোহাম্মদপুরে অভিযানে পাবনার আওয়ামী লীগের তিন নেতা গ্রেপ্তার, ঈশ্বরদী থানায় হস্তান্তর করা হবে
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ইকবাল রোডের প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারের পাশের একটি ভবনের পঞ্চম তলায় অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই ভবন থেকেই তিনজনকে আটক করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টু, ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ আবুল কালাম আজাদ মিন্টু এবং আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র শহিদুল ইসলাম রতন।
তিনজনের মধ্যে দুজনই ঈশ্বরদীর নেতা এবং দুজনের নামের শেষাংশই ‘মিন্টু’ — একজন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, অন্যজন সাবেক পৌর মেয়র। তৃতীয়জন আটঘরিয়ার উপজেলা সভাপতি ও সাবেক মেয়র।
পুলিশ সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিন নেতার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া তাঁরা ঢাকায় অবস্থান করে দলীয় কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে তৎপর ছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। রাজধানীতে অবস্থান করেই তাঁরা সাংগঠনিক যোগাযোগ রাখছিলেন — এমন তথ্যই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে।
তিন নেতার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। যেসব এলাকায় তাঁরা দীর্ঘদিন দলীয় ও জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানে এই গ্রেপ্তার এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
ওসি মো. আব্দুল হালিম বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের ঈশ্বরদী থানায় হস্তান্তর করা হবে।’
অর্থাৎ মোহাম্মদপুর থানার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই তিনজনকে পাবনার ঈশ্বরদী থানায় পাঠানো হবে, যেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।



