ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রধান ফটক ও প্রাচীর নির্মাণের উদ্বোধন, খরচ আড়াই কোটি টাকা
প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের প্রধান ফটক ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজের ফলক উন্মোচন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এই নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্দিরের উন্নয়ন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নগর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে ভেতরে-বাইরে সুন্দর করে সাজানোর পাশাপাশি আদি ঢাকা তথা পুরান ঢাকার সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ করছে সিটি করপোরেশন।
আবদুস সালাম বলেন, “ঢাকেশ্বরী মন্দির ঢাকার প্রধান মন্দির এবং এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনেক পুরোনো। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এ মন্দির পরিদর্শনে আসেন। তাই মন্দিরের পরিবেশ ও অবকাঠামো সুন্দর করার পাশাপাশি এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্রও তুলে ধরতে হবে।”
তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।” এ দেশে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ—সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করে। সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু হিসেবে বিভাজন না করে সবাইকে এ দেশের নাগরিক হিসেবে দেখতে হবে। একজন মুসলমানের যে অধিকার, একজন হিন্দুরও সেই সমান অধিকার রয়েছে, বলেন তিনি।
মন্দিরের উন্নয়নে সহযোগিতার কথা জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “প্রধান ফটক ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি মন্দিরের সার্বিক উন্নয়নে অতিরিক্ত ১৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ কাজের দরপত্র প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।”
ঢাকা শহর পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুস সালাম বলেন, “সকালে শহর পরিষ্কার থাকলেও মানুষের চলাচল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবর্জনা জমতে শুরু করে।”
এ অবস্থা পাল্টাতে রাস্তায় টিস্যু ও অন্যান্য বর্জ্য না ফেলা, ড্রেনে ময়লা না দেওয়া, পলিথিন বর্জন এবং বাড়িঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ রক্ষা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। গাছ লাগানো ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দিরের রাস্তা সংস্কার, আলোর ব্যবস্থা ও ড্রেনেজ পরিষ্কারে সিটি করপোরেশন কাজ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রথমবারের মতো ডিএসসিসির আওতাধীন ১৬৮টি পূজামণ্ডপে মোট ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।”
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে তেলেগু ও কানপুরি সম্প্রদায়ের প্রায় ৬৮০টি পরিবারকে এবার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বোনাস দেওয়া হয়েছে, যাতে তারাও উৎসবের আনন্দে অংশ নিতে পারেন।
আবদুস সালাম বলেন, “সমাজে যারা মানবতার ক্ষতি করে, তারা কোনো ধর্মের নয়; তারা মানুষের শত্রু। অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। কাউকে পিছিয়ে রেখে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।”
বক্তব্যের শেষে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সবার কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ডিএসসিসি সব ধর্মের মানুষের পাশে রয়েছে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ডিএসসিসি প্রশাসক ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করেন এবং পূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় ঢাকা মহানগর পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



