মৃত্যুর গুজব উড়িয়ে মেয়েকে নিয়ে প্রকাশ্যে কিম জং উন, রাষ্ট্রীয় পত্রিকায় ছবি
মারা গেছেন — এমন গুজব ছড়ানোর মধ্যেই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে প্রকাশ্যে দেখা গেছে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত নতুন ছবিতে কিমকে তাঁর মেয়ের সঙ্গে একটি পোশাক ও জুতার প্রদর্শনী ঘুরে দেখতে দেখা যায়। তবে তাঁর মৃত্যুর দাবির পক্ষে কোনো ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র রোদং সিনমুনে প্রকাশিত ছবিতে কিম জং উনকে মেয়ের সঙ্গে প্রদর্শনী পরিদর্শন করতে দেখা যায়। সংবাদপত্রটির প্রতিবেদনে প্রদর্শনীটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও তুলে ধরা হয়।
প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, তিনি মেয়ে কিম জু এ এবং তাঁর নিয়মিত কর্মকর্তা-দলের সদস্যদের সঙ্গে প্রদর্শনীর বিভিন্ন সামগ্রী ঘুরে দেখছেন। তবে ছবিগুলো ঠিক কবে তোলা হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি — গুজব পুরোপুরি কাটাতে এই অনিশ্চয়তাই সবচেয়ে বড় ফাঁক।
গুজবের উৎস একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী চীনা ভিন্নমতাবলম্বী ওয়ানজুন শি দাবি করেন, কিম জং উন গুরুতর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে কোমায় চলে গিয়েছিলেন এবং পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ওয়ানজুন শির দাবি অনুযায়ী, পরবর্তীতে কিমের মৃত্যু হয় এবং তাঁর মরদেহ গোপনে উত্তর কোরিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। দেশটির শাসকগোষ্ঠী কিমের মৃত্যুর খবর গোপন রেখেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
ওয়ানজুন শি নিজেকে নিষিদ্ধ চীনা ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দেন। এর আগেও তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন যাচাই না করা দাবি প্রচার করেছিলেন — ফলে তাঁর নতুন দাবিটির বিশ্বাসযোগ্যতা শুরু থেকেই প্রশ্নের মুখে ছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দেশটির বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপকে জানিয়েছেন, কিম জং উনের মৃত্যুর দাবির পক্ষে সমর্থনযোগ্য কোনো তথ্য তাঁদের কাছে নেই। সিউলের এই অবস্থান গুজবটিকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা প্রায়ই চীনা সীমান্তসংলগ্ন অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পেয়ে থাকেন। তবে কিমের স্বাস্থ্য নিয়ে ছড়ানো সাম্প্রতিক গুজবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এমন কোনো লক্ষণ সেসব মাধ্যমে দেখা যায়নি।
উত্তর কোরিয়া বিশ্বের অন্যতম গোপনীয় রাষ্ট্র। দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা কঠিন বলেই নেতা ও তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা গুজব ছড়ায়। কিমের মৃত্যুর এই গুজব অতীতে ছড়ানো বিভিন্ন ভিত্তিহীন খবরের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
কিমের নতুন ছবি প্রকাশের ফলে তাঁর মৃত্যুর দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি। তবে শুধু ছবি প্রকাশের ভিত্তিতে কিমের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সম্ভব নয় — ছবি কবের তোলা, তা জানা না গেলে এই সতর্ক অবস্থানই যুক্তিসংগত।
সব মিলিয়ে, প্রমাণহীন মৃত্যুর দাবি, রাষ্ট্রীয় পত্রিকার প্রদর্শনী-সফরের ছবি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দাদের ‘সমর্থনযোগ্য তথ্য নেই’ অবস্থান — এই তিনটি তথ্য মিলিয়ে আপাতত গুজবটিকে ভিত্তিহীন বলেই দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা। কিমের পরবর্তী প্রকাশ্য কর্মসূচিই দেবে সবচেয়ে স্পষ্ট উত্তর।




