স্ত্রীকে আইসিই ধরে নিয়েছে বলে মিথ্যা গল্প, ক্যালিফোর্নিয়ায় নার্স হত্যায় স্বামী অভিযুক্ত
নিখোঁজ স্ত্রীকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইসিই ধরে নিয়ে গেছে — পুলিশের কাছে এমন গল্প শুনিয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোর গুরিন্দর গিল। কিন্তু পাশের কাউন্টির পাহাড়ে পোড়া ও মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় স্ত্রীর দেহাবশেষ মেলার পর সেই গল্পই এখন তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলার কেন্দ্রে। ২৮ বছর বয়সী গুরিন্দর গিলের বিরুদ্ধে ৩০ বছর বয়সী স্ত্রী জেসমিন গিলকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
জেসমিন গিল ছিলেন ভারতে জন্ম নেওয়া একজন নার্স এবং মাত্র আট মাস বয়সী এক শিশুর মা। স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ এবং সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে বিরোধ চলছিল।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুরিন্দর গিল পুলিশকে বলেছিলেন, জেসমিন বাড়ির বাইরে ডাক নিতে গেলে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকর্তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান। প্রথম দিকে অনুসন্ধান চলছিল একজন সম্ভাব্য আটক ব্যক্তিকে ঘিরেই।
কিন্তু তার কয়েক দিন আগেই প্রতিবেশী এল ডোরাডো কাউন্টিতে পোড়া ও মাটিচাপা দেওয়া মানবদেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল। পরে নিশ্চিত হয়, সেই দেহাবশেষ জেসমিন গিলেরই। দেহাবশেষ পাওয়া যায় ১ অক্টোবর, দম্পতির স্যাক্রামেন্টোর বাড়ি থেকে প্রায় ৭০ মাইল দূরে, এল ডোরাডো কাউন্টির পাহাড়ি এলাকায়।
জেসমিনকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। তাঁর এক চাচাতো/খালাতো সম্পর্কের আত্মীয় ৪ অক্টোবর তাঁর নিখোঁজ হওয়ার খবর পুলিশকে জানান। সেই অভিযোগের পর থেকেই স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের গোয়েন্দারা তদন্ত শুরু করেন।
শেরিফ দপ্তরের মুখপাত্র সার্জেন্ট এডওয়ার্ড ইগো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফ দপ্তরের গোয়েন্দারা স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়া সম্পর্কে গুরিন্দরের বক্তব্যে বেশ কয়েকটি অসংগতি শনাক্ত করেন।’ সেই অসংগতিই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
এরপর গোয়েন্দারা গুরিন্দরের দাবি যাচাই করতে সরাসরি আইসিইর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ইগো জানান, ‘গোয়েন্দারা আইসিইর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, এবং আইসিই নিশ্চিত করে যে ওই বাসায় কোনো ধরনের আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রমই চালানো হয়নি।’ অর্থাৎ স্ত্রীকে আইসিই ধরে নেওয়ার গল্পটি ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
দেহাবশেষ শনাক্ত হওয়ার পর ১৪ অক্টোবর ডেপুটিরা গুরিন্দর গিলকে গ্রেপ্তার করেন। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি বাড়িতে তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়। তিনি জামিনের অযোগ্য হিসেবে আটক আছেন বলে শেরিফ দপ্তর জানিয়েছে।
জেসমিনের পরিবারের জন্য খোলা একটি গোফান্ডমি প্রচারে বলা হয়েছে, তিনি ভারতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর মা এখনো ভারতেই থাকেন। মায়ের পথ অনুসরণ করেই জেসমিন রেজিস্টার্ড নার্স হয়েছিলেন। তাঁর আট মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
সমর্থকেরা ইতিমধ্যে ২১ হাজার ডলারের বেশি অনুদান তুলেছেন। এই অর্থের লক্ষ্য জেসমিনের দেহাবশেষ তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং তাঁর ছেলের লালন-পালনে সহায়তা করা। প্রচারের ভাষায়, তিনি নিজের ও সন্তানের জন্য একটি ভালো ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াই করছিলেন।
মামলাটি এখন আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার দিকে এগোবে। বিবাহবিচ্ছেদ ও অভিভাবকত্বের বিরোধের পেছনের পুরো ঘটনাপ্রবাহ, দেহাবশেষ এল ডোরাডো কাউন্টিতে কীভাবে গেল এবং গুরিন্দরের প্রাথমিক বক্তব্যের প্রতিটি অসংগতি — এসবই এখন তদন্ত ও বিচারের মূল প্রশ্ন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত মামলাটি বিচারাধীনই থাকছে।






