সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রাবি শিক্ষার্থী চেসিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠাল প্রশাসন
সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে তাঁকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা দেওয়ার কথা রয়েছে।
চেসি ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। বিষয়টি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম।
এর আগে গত সোমবার রাজশাহীর বাগমারা থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন চেসি ত্রিপুরা।
দুর্ঘটনার পর সন্ধ্যায় তাঁকে প্রথমে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। তাঁর মাথার ডান দিকে গুরুতর আঘাত ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে।
উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, চতুর্থ বর্ষের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের এই ছাত্রী মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন, তাঁর মাথায় আঘাত ছিল, খুলি ফেটে গিয়েছিল, এখানকার চিকিৎসকেরা নিউরোসার্জারি করতে বলেছেন, তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি ভেন্টিলেশনে ছিলেন।
তিনি বলেন, যথেষ্ট চেষ্টার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা সকালেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে এই শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠাতে হবে। তাঁকে ঢাকার নিউরোসায়েন্সেসে রেফার করা হয়েছে, সেখানকার পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তাঁর জন্য একটি আইসিইউ প্রস্তুত আছে এবং সেখানে পৌঁছানো মাত্রই চিকিৎসা শুরু হবে। তাঁর কাগজপত্র আগেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, ছাত্রছাত্রীদের পাশে প্রশাসন সব সময় ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তাঁরা এভাবেই কাজ করে যেতে চান এবং যত ধরনের প্রয়োজন হয় তা পূরণের চেষ্টা করবেন, এটি তাঁদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
উপাচার্য উল্লেখ করেন, এই শিক্ষার্থী সুদূর বান্দরবান থেকে লেখাপড়া করতে এসেছেন, তাই প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তাঁরাই তাঁর অভিভাবক—এই বার্তাটিই তাঁরা দিতে চান, যা তাঁরা ইতিপূর্বেও করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।
চেসি ত্রিপুরার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সবার কাছে প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন উপাচার্য। তিনি দেশবাসীর কাছে বলেন, এই শিক্ষার্থীর জন্য সবাই যেন প্রার্থনা করেন, যাতে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে সবার মাঝে ফিরে আসতে পারেন।
এখন ঢাকায় নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর পরবর্তী চিকিৎসা, বিশেষ করে মাথার আঘাতের জন্য প্রয়োজনীয় নিউরোসার্জারির সিদ্ধান্তই তাঁর সুস্থতার পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে থাকবে।





