সরকারি সংস্থায় চীনের ডিপসিক এআই ব্যবহার নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র
চীনা স্টার্টআপ ডিপসিকের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহার বন্ধ করতে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে। দ্রুত বদলে যাওয়া এই খাতে আধিপত্য নিয়ে দুই দেশের প্রতিযোগিতার মধ্যেই এলো এই নিষেধাজ্ঞা।
মার্কিন স্বদেশ নিরাপত্তা বিভাগের (ডিএইচএস) এক বিজ্ঞপ্তিতে ডিপসিকের তৈরি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় তৃতীয় পক্ষের তৈরি সেই টুলগুলোও পড়বে, যেগুলো ডিপসিক ব্যবহার করে তৈরি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব টুল তথ্যপ্রযুক্তি ডিভাইসগুলো থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।
তবে এই নির্দেশের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ডিএইচএস বেসামরিক সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিতে পারলেও সেনাবাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার এর নেই। বার্তা সংস্থা এএফপি মন্তব্য চাইলে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ কোনো সাড়া দেয়নি।
বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সংযুক্ত একটি নথিতে বলা হয়েছে, ডিপসিকের মডেলগুলো ‘একাধিক হুমকির পথ’ তৈরি করে। বিভাগটির সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মার্কিন সরকারি কর্মী বা ঠিকাদাররা ডিপসিকের এআই টুল ব্যবহার করলে তা ‘সংবেদনশীল তথ্য চীনে স্থানান্তরের’ কারণ হতে পারে।
কারণ হিসেবে ডিএইচএস বলেছে, ডিপসিকের সার্ভারগুলো চীনে অবস্থিত, যেখানে আইনি ব্যবস্থা সরকারকে বেসরকারি কোম্পানির অবকাঠামোতে ব্যাপক প্রবেশাধিকার দিয়েছে। অর্থাৎ, তথ্য নিরাপত্তা নিয়েই ওয়াশিংটনের মূল উদ্বেগ।
চীনের শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষণাগারগুলোর একটি ডিপসিক ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কম খরচে উচ্চ কার্যক্ষমতার একটি চ্যাটবট এনে পুরো শিল্পে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের এআই আধিপত্য নিয়ে প্রচলিত ধারণাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
প্রতিষ্ঠানটি এপ্রিলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন মডেল ভি৪ প্রকাশ করে এবং অক্টোবরের শুরুর দিকে ভি৪-এরই আরও দ্রুত ও হালকা একটি সংস্করণ হালনাগাদ করে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এই ধারার মধ্যেই এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও ডিপসিকসহ চীনের শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বীদের তৈরি অত্যাধুনিক মডেলের সক্ষমতা পরিকল্পিতভাবে চুরি করার অভিযোগ এনেছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা সেই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের সারিতেই সর্বশেষ সংযোজন।
অবশ্য এই খাতে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও দুই দেশ সম্প্রতি একটি যোগাযোগের পথ খুলেছিল। সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসে শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এআই-সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে একটি ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ গড়তে সম্মত হয়েছিল।
আগামী নভেম্বরে চীনের শেনজেন শহরে নির্ধারিত শীর্ষ সম্মেলনে শি ও ট্রাম্পের বৈঠকেও বিষয়টি আবার উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার পর বেইজিংয়ের প্রতিক্রিয়া এবং সেই আলোচনায় এর প্রভাবই এখন দেখার বিষয়।






