প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী জনসভাস্থলের পাশের পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, সাঁতার না জানা রাফসান নিখোঁজ ছিলেন সোমবার থেকে
রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনসভাস্থল মাদ্রাসা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠসংলগ্ন একটি পুকুর থেকে রাফসান বিন আব্দুল্লাহ (১৮) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জনসভাকে ঘিরে এলাকায় যখন প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার ব্যস্ততা, তখন জনসভাস্থলসংলগ্ন পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধারের এই ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে নগরীর শাহ মখদুম ইনস্টিটিউট লাইব্রেরির পাশের পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি উদ্ধারের পর তা শনাক্ত করা হয় রাফসান বিন আব্দুল্লাহ হিসেবে।
রাফসান নগরীর হোসনীগঞ্জ বেতপট্টি এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত আব্দুল্লাহ জাকি রুবেলের ছেলে।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাফসান আর ফেরেননি। সোমবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলেই পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে।
জানা গেছে, রাফসান চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। সেই পরীক্ষায় তিনি একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিলেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, রাফসান নিয়মিত ওই মাঠে খেলাধুলা করতেন। ফলে জনসভাস্থল হিসেবে পরিচিত মাঠ ও তার আশপাশের এলাকা তাঁর কাছে অপরিচিত ছিল না।
পুলিশের এই মুখপাত্র আরও জানান, রাফসান সাঁতার জানতেন না বলে জানা গেছে। এই তথ্যটি তাঁর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার সকালে খেলাধুলা শেষে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে এটিকে প্রাথমিক ধারণা হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।
উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান আরও জানান, মরদেহের প্রাথমিক সুরতহালে শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই তথ্য প্রাথমিক ধারণাকে আরও জোর দিয়েছে, তবে ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মরদেহটি বর্তমানে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরিবারের সদস্যরা এখন সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলের পাশে এমন মৃত্যুর ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি মনোযোগ কেড়েছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে ঘটনাটিকে পানিতে ডুবে মৃত্যুর দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন না থাকার কথা জানানো হয়েছে।
এখন মর্গের প্রক্রিয়া ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য জানার দিকেই সবার নজর থাকবে।



