মিরপুরে প্রথম অনুশীলনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, উইকেট খুঁটিয়ে দেখলেন কোচ ড্যারেন সামি
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ সামনে রেখে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুশীলন সেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে ব্যাটিং, ফিল্ডিং ও ফিটনেস অনুশীলনে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা। আর অনুশীলনের আগে মিরপুরের উইকেট খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন হেড কোচ ড্যারেন সামি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুই ধাপে বাংলাদেশে পা রাখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। এক দিন বিশ্রাম শেষে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তারা প্রথমবারের মতো অনুশীলনে নামে। টেস্ট সিরিজের আগে বাংলাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই ছিল এই অনুশীলনের প্রধান লক্ষ্য।
অনুশীলনের শুরুতে ওয়ার্মআপ ও টিম মিটিং সেরে নেন ক্রিকেটাররা। এরপর রানিং, ফিটনেস, ক্যাচিং ড্রিল ও ফিল্ডিং অনুশীলনে নিজেদের ব্যস্ত রাখেন তারা। দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটের জন্য শারীরিক প্রস্তুতি ও ফিল্ডিংয়ের ধার — দুটোতেই সমান গুরুত্ব দিয়েছে সফরকারী দলটি।
অনুশীলনের আগে মিরপুরের উইকেট বেশ মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায় হেড কোচ ড্যারেন সামিকে। টেস্ট ক্রিকেটে উইকেটের আচরণ যে ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে, তা ভালোভাবেই জানেন তিনি। তাই ব্যাটারদের অনুশীলনের পাশাপাশি উইকেটের চরিত্র বোঝার চেষ্টাও ছিল তার প্রস্তুতির অংশ।
মাঠের সেন্টার উইকেটের পাশে শিষ্যদের নিয়ে দীর্ঘ সময় স্লিপ ক্যাচিং অনুশীলন করান সামি। টেস্ট ক্রিকেটে ক্যাচিংয়ের গুরুত্ব বিবেচনায় ফিল্ডিংয়ের এই বিশেষ অনুশীলনে বাড়তি মনোযোগ দেয় দলটি — কারণ বড় ম্যাচে একটি ফসকে যাওয়া ক্যাচই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের চিত্র।
অন্যদিকে, আসন্ন সিরিজকে সামনে রেখে মিরপুরের নেটে প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে বাংলাদেশের মুমিনুল হক, সাদমান ইসলাম ও এবাদত হোসেনকে। তাদের অনুশীলন তদারকি করেন কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। ঘরের মাঠে সিরিজের আগে স্বাগতিক শিবিরেও প্রস্তুতির ব্যস্ততা স্পষ্ট।
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের সাম্প্রতিক পথচলায় এই সিরিজের গুরুত্ব কম নয়। ঘরের মাঠে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার লড়াইও অপেক্ষা করছে স্বাগতিকদের সামনে।
তবে বাংলাদেশের বেশির ভাগ ক্রিকেটার বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যস্ত থাকায় টেস্ট প্রস্তুতিতে রয়েছে আলাদা সমীকরণ। সীমিত ওভারের সিরিজ শেষে দলে ফিরে টেস্টের ছন্দে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে তাদের — মিরপুরে আগেভাগে অনুশীলন করা তিন ক্রিকেটারের প্রস্তুতি সেই কারণেই আলাদা তাৎপর্য পাচ্ছে।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই ম্যাচ দিয়েই ম্যাচ পরিস্থিতিতে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা।
এরপর শুরু হবে মূল লড়াই। আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট, যা চলবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় টেস্টের জন্য সিলেটে যাবে দুই দল; সেখানে ৫ নভেম্বর শুরু হবে সিরিজের শেষ ম্যাচ, যা শেষ হবে ৯ নভেম্বর।
মিরপুরের উইকেট নিয়ে সামির খুঁটিয়ে দেখা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সফরকারীরা এই সিরিজকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। স্বাগতিকদের ঘরের মাঠের সুবিধা কাটিয়ে উঠতে কন্ডিশন বোঝাকেই তারা প্রথম কাজ হিসেবে বেছে নিয়েছে — প্রথম অনুশীলনের চিত্র অন্তত সেই কথাই বলছে।
এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষা প্রস্তুতি ম্যাচ ও প্রথম টেস্টের দিকে। মিরপুরের উইকেট কেমন আচরণ করে আর দুই দলের প্রস্তুতি মাঠে কতটা কাজে আসে — তার উত্তর মিলবে ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সাদা পোশাকের লড়াইয়েই।




