সরাইলে শিশু মিমের ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে শিশু মিমের ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন বিক্ষুব্ধ মানুষ। শিশুটির ওপর সংঘটিত অপরাধের বিচার চেয়ে সড়কে নেমে আসা মানুষের একটাই দাবি ছিল — অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ। সেই মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানানোর মধ্য দিয়ে স্থানীয় মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই ঘটনাকে তারা কোনোভাবেই একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখছেন না; শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ এখন প্রতিবাদে রূপ নিয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মানুষের দাবি ছিল স্পষ্ট — মিমের ধর্ষণের অপরাধীদের ফাঁসি দিতে হবে। ব্যানার ও স্লোগানে সেই দাবিই বারবার উচ্চারিত হয়। প্রতিবাদকারীদের ভাষ্য, শিশু ধর্ষণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো যাবে না।
সরাইলের এই কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ও শোকের আবহ একসঙ্গে বিরাজ করে। একটি শিশুর ওপর ঘটে যাওয়া অপরাধ পুরো এলাকার মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে বলেই মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হয়েছেন তারা — এমন মনোভাবই প্রতিবাদের ধরন থেকে স্পষ্ট হয়েছে।
শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির দাবি বাংলাদেশে নতুন নয়। প্রতিটি এমন ঘটনার পরই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, আর সরাইলের ঘটনাও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবারের প্রতিবাদের বিশেষত্ব হলো, স্থানীয় মানুষ শুধু বিবৃতি বা প্রতিবাদ সভায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; তারা মহাসড়ক অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি বেছে নিয়েছেন।
মহাসড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-সিলেট পথে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয় — কারণ এই পথ দিয়ে প্রতিদিন সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। তবু প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য ছিল, শিশুর ওপর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাতেই তাদের এই পথে যেতে হয়েছে।
প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার দাবিও ওঠে। মামলার তদন্ত ও বিচারে দীর্ঘসূত্রতা যেন অপরাধীদের পার পাওয়ার সুযোগ তৈরি না করে — সেই আশঙ্কার কথাও প্রতিবাদকারীদের দাবির পেছনে কাজ করেছে বলে স্থানীয়দের আলোচনায় উঠে এসেছে।
শিশু সুরক্ষার প্রশ্নটি এই ঘটনায় আবার সামনে এসেছে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকার প্রতিটি স্তরে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে শুধু শাস্তির দাবিতেই সমস্যার সমাধান হবে না — এমন আলোচনাও সরাইলের প্রতিবাদের পাশাপাশি চলছে। তবে আপাতত এলাকার মানুষের প্রধান ও একমাত্র জোরালো দাবি অপরাধীদের ফাঁসি।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধনের এই কর্মসূচি সিলেট বিভাগজুড়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মিমের জন্য বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন, যাতে সরাইলের প্রতিবাদ আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়েছে।
এখন সবার নজর তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার দিকে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ কত দ্রুত ও কতটা দৃঢ়ভাবে এগোয়, তার ওপরই নির্ভর করবে সরাইলের মানুষের এই ক্ষোভ প্রশমিত হয় কি না। আপাতত ফাঁসির দাবিতে তাদের প্রতিবাদই বলে দিচ্ছে — মিমের জন্য ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা থামতে রাজি নন।


