নাটোরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১০, আহত অন্তত ২৫
নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও বড়াইগ্রাম থানা সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বরগুনা থেকে রাজশাহীগামী আরপি পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনাগামী বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই নয়জনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালসহ নাটোর ও রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে এক শিশুর মৃত্যু হয় নাটোর সদর হাসপাতালে — এতে করে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় অন্তত ১০ জনে।
নাটোর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আক্তার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নাটোর সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুর রউফ জানান, দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। নিহতদের মধ্যে একটি ১০ বছর বয়সী কন্যাশিশু রয়েছে; এ ছাড়া চালক-হেলপারসহ নিহতরা সবাই পুরুষ।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তের কাজে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন, আর দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্বজনরা হাসপাতালগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম জানান, আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
ভোরের এই দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রাতভর চলাচলের পর ভোরের দিকে চালকদের ক্লান্তি, অতিরিক্ত গতি এবং বালুবোঝাই ট্রাকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল — এসব কারণকে এ ধরনের মুখোমুখি সংঘর্ষের পেছনে দায়ী করে থাকেন সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। তবে এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের পরই জানা যাবে।
দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন দুটি সরিয়ে সড়ক স্বাভাবিক করার কাজে অংশ নেন। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বহু বছর ধরেই বড় উদ্বেগের বিষয়। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও মহাসড়কে ঝরছে প্রাণ। নাটোরের এই দুর্ঘটনা সেই তালিকায় যোগ হলো আরও দশটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নিয়ে।
এখন সবার অপেক্ষা নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হয়ে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের দিকে। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহতদের নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে — নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।




