রাষ্ট্রপতির কাছে গেছে ইশরাকের পদত্যাগপত্র, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের হাতে পৌঁছেছে কপি — আজই আসতে পারে প্রজ্ঞাপন
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ এখন আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, ইশরাকের পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের হাতে পৌঁছেছে এবং তা রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন। এবার অপেক্ষা শুধু গেজেট প্রজ্ঞাপনের।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মধ্য দিয়েই পদত্যাগ সম্পূর্ণ আনুষ্ঠানিক রূপ পায় — সরকারি দপ্তর ও নথিপত্রে কার্যকর হয় শূন্যতা।
ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি নিজেই তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনের সেই ঘোষণার পর পদত্যাগপত্র পৌঁছানো ও রাষ্ট্রপতির গ্রহণের খবরে প্রক্রিয়াটি প্রায় সম্পূর্ণ হলো।
দিনটির ঘটনাপ্রবাহ ছিল নাটকীয় উত্থান-পতনে ভরা। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ধারাবাহিক বিবরণ অনুযায়ী, আগের রাতে পদত্যাগের খবরকে ‘গুজব’ বলা থেকে শুরু করে সকালে ‘পদত্যাগের সিদ্ধান্ত’, আর দুপুরে ‘স্বেচ্ছায় অব্যাহতি’ — একই দিনে ইশরাকের অবস্থান বারবার রূপ বদলেছে। সেই ধারাবাহিকতার শেষ অধ্যায়ই প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলন।
প্রজ্ঞাপন কবে আসবে, সেটাই এখন আলোচনার কেন্দ্র। একটি বড় জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। রাষ্ট্রপতির গ্রহণের খবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নিশ্চিত করায় সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে — প্রশাসনিক দপ্তরে ফাইল প্রক্রিয়া সাধারণত এর পর দীর্ঘ হয় না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে পদত্যাগপত্র পাওয়ার তথ্য জানা গেলেও প্রজ্ঞাপনের সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে বিভাগটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে সরকারি গেজেটে নাম ওঠা পর্যন্ত অনিশ্চয়তার একটি ক্ষীণ রেখা থেকেই যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের ব্যবস্থা নিয়ে। প্রজ্ঞাপন জারির পর মন্ত্রণালয়ের কাজ কে দেখবেন — পূর্ণ মন্ত্রী নিজে, নাকি অন্য কাউকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে — তা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
ইশরাকের এই পদত্যাগ ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজনীতির অঙ্গনে যেভাবে আলোচনা-সমালোচনা চলেছে, তাতে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ শুধু একটি প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি সেই বিতর্কিত অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানবে। তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও জল্পনা চলছে নানা মহলে।
বিরোধী ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া এবং সরকারদলীয় মহলের বক্তব্য — পদত্যাগের ঘোষণার পর থেকেই সংবাদমাধ্যমে এসব নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে। প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে সেই আলোচনা নতুন মোড় নেবে, নাকি ধীরে ধীরে স্তিমিত হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের ওপর।
আপাতত সবার নজর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দিকে। আজই প্রজ্ঞাপন আসে কি না, আর এলে তাতে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে কোনো নির্দেশনা থাকে কি না — এই দুই প্রশ্নের উত্তর মিললেই ইশরাক হোসেনের প্রতিমন্ত্রিত্বের অধ্যায় পুরোপুরি বন্ধ হবে।





