দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি: সোমবার বিকেল থেকেই ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। ছুটি শুরু হওয়ার আগের দিন সোমবার বিকেল থেকেই বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে দেখা গেছে বাড়িমুখো যাত্রীদের বাড়তি ভিড়।
পরিবারের সঙ্গে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেমন বাড়ি যাচ্ছেন, তেমনি দীর্ঘ ছুটি পাওয়ায় স্বজনদের সঙ্গে কয়েকটি দিন কাটানো আর শিকড়ের টানে বাড়ির পথে ছুটছেন নগরবাসীর অনেকেই। কর্মব্যস্ত নগরজীবন পেছনে ফেলে আপনজনের কাছে ফেরার এই যাত্রায় কারও হাতে ব্যাগ, কারও সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও শিশু—সবার চোখেমুখে উৎসবের আনন্দ আর বাড়ি ফেরার প্রত্যাশা।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবরের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের অবকাশ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগে অনেকেই রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়ি ও আত্মীয়স্বজনের কাছে যাচ্ছেন।
ফলে ছুটি শুরুর আগেই রাজধানীর বিভিন্ন গণপরিবহন কেন্দ্রে ঘরমুখো মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। আগেভাগে রওনা হলে পূজার দিনগুলো স্বজনদের সঙ্গে পুরোপুরি কাটানো যাবে—এই হিসাবেই অনেকে সোমবারই ঢাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি যাত্রীর উপস্থিতি দেখা যায়। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চের যাত্রীদের মধ্যে ছিল বাড়ি ফেরার তাড়া।
কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকা মানুষ ছুটি পেয়ে পরিবারের সঙ্গে পূজার সময় কাটাতে গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন। তাদের কাছে এই কয়েকটি দিন সারা বছরের অপেক্ষার ফল।
বরিশালগামী লঞ্চের অপেক্ষায় থাকা ভূবন চন্দ্র রায় বলেন, বাড়িতে সবাই অপেক্ষা করছে। পূজার সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারবেন, এটাই সবচেয়ে আনন্দের। গ্রামের বাড়িতে মা-বাবা অপেক্ষায় আছেন।
রাজধানীর আরামবাগে কুমিল্লাগামী তিশা প্লাস বাস কাউন্টারেও যাত্রীদের বাড়তি চাপ দেখা গেছে। কাউন্টারে কর্মরত জয়নাল বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় সোমবার যাত্রীর চাপ অনেক বেশি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাড়ি ফেরা মানুষের যাতায়াত বেড়েছে।
তবে বাড়তি চাপ থাকলেও আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এদিকে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনেও যাত্রীদের বাড়তি উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। হাতে ব্যাগ, সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও শিশুদের নিয়ে ট্রেন ধরার প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে স্টেশনজুড়ে ছিল বাড়ি ফেরার ব্যস্ততা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং পরিচিত পরিবেশে সময় কাটানোরও উপলক্ষ।
কর্মসূত্রে রাজধানীতে বসবাসকারী অনেকেই সারা বছর এমন ছুটির অপেক্ষায় থাকেন। পূজার প্রস্তুতিতে পরিবারের পাশে থাকা, মা-বাবার সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা শৈশবের পরিচিত পরিবেশে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশা তাদের বাড়ি ফেরার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ছুটিকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই গণপরিবহনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার গুরুত্ব রয়েছে। আপাতত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দিনের এই অবকাশেই মগ্ন ঘরমুখো মানুষ—রাজধানীর ব্যস্ততা পেছনে ফেলে তাদের যাত্রা এখন গ্রামের বাড়ি আর স্বজনদের দিকে।



