শেষ মুহূর্তে স্বস্তি: ইউক্রেন ও সুদানের এক লাখের বেশি অভিবাসীর বহিষ্কার স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ইউক্রেন ও সুদানের এক লাখের বেশি মানুষ আপাতত বহিষ্কারের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি ছাড়াই দেশটিতে থাকতে পারবেন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, অস্থায়ী সুরক্ষিত মর্যাদা (টিপিএস) সোমবার শেষ হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও আপাতত এই অভিবাসীরা তাঁদের সুরক্ষা ধরে রাখছেন। সিদ্ধান্তটি এসেছে একেবারে শেষ মুহূর্তে।
টিপিএসের আওতায় প্রায় ১ লাখ ১ হাজার ইউক্রেনীয় এবং ১ হাজার ৮০০ সুদানি নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অধিকার সোমবারই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লিখিত বিবৃতিতে ডিএইচএস বলেছে, এ বিষয়ে ‘যথাযথ সময়ে’ ঘোষণা দেওয়া হবে। ততদিন এই অস্থায়ী ব্যবস্থার আওতাভুক্ত ইউক্রেনীয় ও সুদানিরা ‘সুরক্ষা ধরে রাখবেন’। তবে তাঁরা কত দিন থাকতে পারবেন বা চূড়ান্ত ঘোষণা কবে আসবে, সে বিষয়ে বিভাগটি কিছু জানায়নি।
কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) তাঁরা রাখতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নের জবাব ডিএইচএস দেয়নি। তবে সাধারণভাবে টিপিএস যত দিন কার্যকর থাকে, তত দিন এর আওতাভুক্ত ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে পারেন।
এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের পরিচিত ধরনের আরেকটি উদাহরণ। প্রশাসনটি এর আগে এসব অস্থায়ী সুরক্ষা বাতিল করে অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু এবার সুরক্ষাভোগীদের থাকতে দেওয়া হলেও তাঁরা কত দিন থাকতে পারবেন, সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি—ফলে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলা, হাইতি, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, আফগানিস্তান ও সিরিয়াসহ ১৩টি দেশের ১০ লাখের বেশি মানুষের টিপিএস বাতিল করেছে। সেই পটভূমিতে ইউক্রেন ও সুদানের ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।
ইউক্রেনে মানবিক সহায়তা দেওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে নবাগতদের পুনর্বাসনে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা ‘হোপ ফর ইউক্রেন’-এর প্রধান নির্বাহী ইউরি বোয়েচকো সরকারের ঘোষণাকে ‘শেষ মুহূর্তের জোড়াতালি’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, এটি ‘ক্ষতের ওপর ব্যান্ডেজ বাঁধার মতো, যা আসল সমস্যার সমাধান করে না’। তিনি বলেন, ‘এই মানুষদের সবার জন্য স্থায়ী বসবাসের স্বাভাবিক কোনো পথ বের করার সময় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের।’ তাঁর জোর দাবি, এই মানুষেরা নিরাপদে ইউক্রেনে ফিরতে পারেন না।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনভিত্তিক অভিবাসনবিরোধী থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু আর্থার বলেছেন, সরকার শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে, তবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। ততদিন কিছুই বদলাবে না। তাঁর ভাষায়, ‘শেষ পর্যন্ত এটি হয় বর্ধিত হবে, নয়তো বাতিল হবে। সুদান ও ইউক্রেন উভয় দেশেই সশস্ত্র সংঘাত চলছে—এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই; তাই সচিবের পক্ষে উভয় দেশের টিপিএস চালিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ তাঁর এখতিয়ারের মধ্যে।’
প্রায় এক মাস আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকা প্রায় ২ লাখ এল সালভাদরের নাগরিকের সুরক্ষাও বহাল রাখে প্রশাসন। সে ক্ষেত্রেও বলা হয়েছিল, যথাযথ সময়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে এবং ততদিন তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।
ইউক্রেনকে প্রথম টিপিএসের আওতায় আনা হয় ২০২২ সালের এপ্রিলে—তার দুই মাস আগে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরুর পর। বাইডেন প্রশাসন পরবর্তীকালে এই মর্যাদার মেয়াদ বাড়ায়; সর্বশেষ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডিএইচএস আরও ১৮ মাসের সুরক্ষা অনুমোদন করে, যা ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। অন্যদিকে সুদানের টিপিএস কর্মসূচি চালু হয় ১৯৯৭ সালে; সশস্ত্র সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে পরপর বিভিন্ন মার্কিন প্রশাসন এর মেয়াদ বাড়িয়ে এসেছে।
সোমবারের এই সিদ্ধান্ত এসেছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে, যখন ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি ভোটের ময়দানে পরীক্ষার মুখোমুখি হবে। কর্মী ও দ্বিদলীয় একদল আইনপ্রণেতা ইউক্রেনীয়দের টিপিএস মেয়াদ শেষের আসন্ন সময়সীমা নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিলেন; তাঁদের যুক্তি ছিল, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে তাঁদের ফেরত যাওয়ার পরিস্থিতি নিরাপদ নয়। আপাতত সেই সতর্কতারই জয় হলো—তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় অনিশ্চয়তা কাটেনি।



