৩৬৪ কোটি টাকায় ১ লাখ ১০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনার সুপারিশ
২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের কৃষি খাতের জন্য মোট ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির দুটি প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। দুটি প্রস্তাবে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬৪ কোটি ৭৮ লাখ ৩৯ হাজার ১৭৫ টাকা।
সোমবার অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের ৫০তম সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব দুটি উপস্থাপন করা হয়। কমিটি উভয় প্রস্তাবই অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে।
প্রথম প্রস্তাবটি বাংলাদেশ-সংলগ্ন কাফকো থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া কেনার। সরকারি নথি অনুযায়ী, এই কেনায় মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫১ কোটি ৩০ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৫ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম পড়ছে ৪০৮ দশমিক ৩৭৫ মার্কিন ডলার। প্রস্তাবে কাফকোকেই সুপারিশকৃত সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবটি সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া আমদানির। এতে ব্যয় হবে ২১৩ কোটি ৪৮ লাখ ৯ হাজার ৮০০ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টনের দাম ধরা হয়েছে ৪০১ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার। এই প্রস্তাবেও সাবিককে সুপারিশকৃত সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুটি প্রস্তাবের হিসাব পাশাপাশি রাখলে দেখা যায়, কাফকো থেকে সার কেনায় প্রতি টনের দাম সাবিকের প্রস্তাবের তুলনায় বেশি পড়ছে। তবে একটি প্রস্তাবে ব্যাগড সার এবং অন্যটিতে বাল্ক সার কেনার কথা বলা হয়েছে বলে শুধু প্রতি টনের দাম তুলনা করে সামগ্রিক ব্যয়ের পার্থক্য বিচার করা যায় না — বস্তায় ভরা সার ও খোলা সারের হ্যান্ডলিং ব্যয় এক নয়।
একই সভায় আরও একটি প্রস্তাব উঠেছিল। ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের জন্য ২০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির প্রস্তাবটি আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে কেনার কথা ছিল। তবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে সেটি সভার আলোচনা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ফলে ওই প্রস্তাবের বিষয়ে কমিটির অনুমোদনের কোনো সুপারিশ হয়নি।
সার কেনার প্রস্তাবের দিনেই আরেকটি সিদ্ধান্ত এসেছে ভিন্ন কমিটি থেকে। সোমবার অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের ৪৩তম সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোকিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের উন্নয়ন প্রকল্পে নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। নথিতে প্রকল্পটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে ‘ডেভেলপমেন্ট অব কোকিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, ব্রাহ্মণবাড়িয়া’।
তবে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয়, অর্থায়নের উৎস, বাস্তবায়নের সময়সীমা, উৎপাদন সক্ষমতা কিংবা কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা সম্পর্কে নথিতে বিস্তারিত তথ্য নেই। নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ পাওয়া মানেই চূড়ান্ত অনুমোদন নয়; এসব বিবরণ পরের ধাপের নথিতেই পরিষ্কার হওয়ার কথা।
সার আমদানির বিষয়টি কৃষকদের জন্য সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ। মৌসুমের চাহিদার সময় সারের সরবরাহ ঠিক থাকা না থাকার ওপর নির্ভর করে উৎপাদন ও বাজারদর দুটোই। তাই নতুন অর্থবছরের জন্য আগেভাগে কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াকে সরবরাহ নিরাপত্তার অংশ হিসেবেই দেখা হয়।
দুটি প্রস্তাব এখন কমিটির সুপারিশের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি ও চালান পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। কবে নাগাদ এই সার দেশে পৌঁছাবে, সে সময়সূচি পরবর্তী ধাপে জানা যাবে।
সব মিলিয়ে সোমবারের দুটি পৃথক মন্ত্রিসভা কমিটির সভা থেকে এলো দুই ধরনের সিদ্ধান্ত — সার কেনায় ক্রয় কমিটির অনুমোদনের সুপারিশ, আর টেক্সটাইল মিল উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটির নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ।



