বনানী থেকে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালাকে আবার গ্রেপ্তার করল ডিবি
রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে আবার গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে এই গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দেশের অন্যতম পরিচিত স্বর্ণ ও হীরা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তার এই গ্রেপ্তার সোমবার সন্ধ্যার অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে ওঠে।
ডিবিপ্রধান জানান, দিলীপ আগারওয়ালার বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলার সূত্র ধরেই সিআইডির অনুরোধে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে মামলাটি ঠিক কী অভিযোগে করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ডিবিপ্রধান। ফলে নতুন এই মামলার অভিযোগের ধরন ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।
দিলীপ আগারওয়ালার গ্রেপ্তার এই প্রথম নয়। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। সে সময় তার বিরুদ্ধে সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
ওই দিন মধ্যরাতে রাজধানীর গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই অভিযান ও গ্রেপ্তার সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
পরে রাজধানীর বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামের এক কিশোরকে হত্যার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।
ওই মামলায় তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। তবে পরবর্তী সময়ে জামিনে কারামুক্ত হন দিলীপ আগারওয়ালা।
জামিনে মুক্ত থাকা অবস্থাতেই এবার সিআইডির মামলার সূত্রে আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেন তিনি। বনানী থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে ডিবির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড দেশের স্বর্ণ ও হীরার অলংকার ব্যবসার পরিচিত নাম। প্রতিষ্ঠানটির এমডির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ব্যবসায়ী মহলেও নজর কেড়েছে।
এখন সবার দৃষ্টি সিআইডির মামলাটির দিকে—কী অভিযোগে মামলাটি হয়েছে এবং তদন্তে কী বেরিয়ে আসে, সেটাই নির্ধারণ করবে এই গ্রেপ্তারের পরের ধাপগুলো।





