নারীস্বাস্থ্যে নতুন বিভাগ চালুর নির্বাহী আদেশে সই ট্রাম্পের, উদ্যোগে মেলানিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যার মাধ্যমে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) ভেতরে নারীস্বাস্থ্যের জন্য একটি নিবেদিত বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হবে। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসে এই বিষয়ে একটি টাস্ক ফোর্সও গঠন করা হবে।
সোমবার ওয়াশিংটনে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এই উদ্যোগকে আমেরিকার নারীস্বাস্থ্যে নতুন মানদণ্ড স্থাপনকারী হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এটি আমেরিকার নারীদের জন্য একটি রূপান্তরমূলক মুহূর্ত। আজ থেকে নারীস্বাস্থ্যের বাস্তবতা বদলে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, আগের প্রজন্ম নারীর অধিকারের জন্য লড়াই করেছে; এই প্রজন্ম লড়াই করবে সেই চিকিৎসা আবিষ্কারের জন্য, যা নিশ্চিত করবে একজন নারী সুস্থভাবে ও পরিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন।
ফার্স্ট লেডির নেতৃত্বে এগিয়ে নেওয়া এই প্রকল্প অনুযায়ী, নতুন স্বাস্থ্য বিভাগটি ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর লক্ষ্য হলো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ত্বরান্বিত করা, নারীস্বাস্থ্যে ক্লিনিক্যাল সেবার সুযোগ সম্প্রসারণ করা এবং নারীর জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা আধুনিক করা।
হোয়াইট হাউসের মতে, এনআইএইচের নতুন বিভাগটি সংস্থাটির নারীস্বাস্থ্য গবেষণা দপ্তরকে প্রতিস্থাপন করবে না, তবে গবেষণার বাইরেও এর ম্যান্ডেট আরও বিস্তৃত হবে।
মেলানিয়া ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জৈবপ্রযুক্তি ও যুগান্তকারী চিকিৎসা পদ্ধতিকে নারীস্বাস্থ্যসেবা নতুনভাবে গড়ার অনন্য সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফার্স্ট লেডির দপ্তর এই ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের জন্য পাঁচটি স্তম্ভ চিহ্নিত করেছে। এর একটি হলো এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো নারীদের আক্রান্ত করা রোগের চিকিৎসা আবিষ্কারে লক্ষ্যভিত্তিক গবেষণায় অর্থায়ন। আরেকটি হলো প্রতিশ্রুতিশীল চিকিৎসা পদ্ধতি দ্রুত নারী রোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সময়সীমা সংক্ষিপ্ত করা।
হোয়াইট হাউস টাস্ক ফোর্সের সহ-সভাপতিত্ব করবেন সম্প্রতি ক্যান্সারমুক্ত হওয়া হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র।
সোমবারের নির্বাহী আদেশে টাস্ক ফোর্সের প্রশাসনিক ব্যয় স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগকে বহন করতে বলা হলেও আদেশে কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থায়নের লক্ষ্য বা অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মেলানিয়া ট্রাম্প তুলনামূলকভাবে কম জনসমক্ষে এসেছেন। তবে পালক যত্নের উন্নতি এবং শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ প্রযুক্তির ভূমিকা তুলে ধরতে তিনি জনসমক্ষে এসেছেন। প্রথম মেয়াদে তিনি শিশু কল্যাণ, নিরাপদ সামাজিক মাধ্যম ও ওপিওয়েড অপব্যবহার মোকাবিলা নিয়ে ‘বি বেস্ট’ প্রচারণা চালিয়েছিলেন।
সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে ট্রাম্প কেন্দ্রীয় কর্মীবাহিনীতে যে ছাঁটাই করেছেন, তার প্রেক্ষিতে এই আদেশ কতটা কার্যকর হবে। শুধু এনআইএইচেই হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই হয়েছেন এবং সংস্থাটির জনবল কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে বলে প্রতিবেদনে এসেছে। এনআইএইচকে সব বিভাগে ব্যয় ৩৫ শতাংশ কমানোর সময়সীমাও দেওয়া হয়েছিল, যার পরিমাণ প্রায় ২৬০ কোটি ডলার।
২০২৫ সালের এপ্রিলে বয়স্ক নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে দেশের বৃহত্তম দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা উইমেন্স হেলথ ইনিশিয়েটিভের আঞ্চলিক চুক্তি হঠাৎ বাতিলের উদ্যোগ ব্যাপক নিন্দা ও বহু-রাজ্য মামলার জন্ম দিয়েছিল। সমালোচকরা সতর্ক করেছিলেন, এতে হৃদরোগ, ক্যান্সার ও হাড়ভঙ্গি-সংক্রান্ত জীবনরক্ষাকারী গবেষণা ঝুঁকিতে পড়বে। নতুন উদ্যোগ সেই বিতর্কের পটভূমিতেই এলো।





