আত্মরক্ষায় লাইসেন্স করা অস্ত্র বের করেছিলাম, ভুল করিনি: পদত্যাগের সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক
অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নিজের আত্মরক্ষার জন্যই লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র বের করেছিলেন বলে দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার সময় তিনি এই ব্যাখ্যা দেন।
এর আগে সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে ফেসবুকে একটি পোস্টে পদত্যাগের ইঙ্গিত দেন ইশরাক হোসেন। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে এবং ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক ফেসবুকে লিখেছিলেন, আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে অস্ত্র হাতে নামার ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, ওই জায়গাটি মাদকের হাব হিসেবে পরিণত হয়েছিল, সেখানে মাদক ব্যবসায়ীরা অস্ত্র ব্যবহার করে। সেই কারণেই নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্র নিজের নিরাপত্তার জন্য বের করেছিলেন।
তাঁর দাবি, কেবল নিজের নিরাপত্তার জন্য যতটুকু সময় অস্ত্র হাতে রাখা দরকার, ততক্ষণই রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সেটা কোনো ভুল করিনি। তারপরেও এই ঘটনার জন্য কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’
পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পেছনের কথাও তুলে ধরেন ইশরাক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিজেই পদত্যাগে আগ্রহের কথা বলেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘প্রধানমন্ত্রীকে আমি বলেছি, মাদক প্রতিরোধ করতে আমি পদত্যাগ করতে চাই, এই মাদক আপনার কাজগুলোকে ম্লান করে দিচ্ছে। আমি মাদক নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলব। জীবন বাজি রেখে হলেও মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাব।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও জানান তিনি। ইশরাক বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগ চেয়েছেন, আর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন — যাও, মাদক নির্মূল করো। তিনি জানান, পরবর্তীতে খালি হাতেই মাদক নির্মূলে কাজ করবেন।
অর্থাৎ মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও মাদকবিরোধী তৎপরতা থেকে সরে আসছেন না বলেই বার্তা দিলেন ইশরাক হোসেন। তাঁর এই বক্তব্য অনুযায়ী, এবার তাঁর লড়াই চলবে সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে, সরকারি পদের বাইরে থেকে।
অস্ত্র হাতে অভিযানে নামা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা-ই শেষ পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। সমালোচনার মুখে তিনি ঘটনার ব্যাখ্যা দিলেও দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি।
লাইসেন্স করা অস্ত্র হলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়া কতটা যথাযথ — সেই প্রশ্নই এই বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। নিজের ব্যাখ্যায় ইশরাক সেই কাজকে ভুল মানতে রাজি হননি, তবে ঘটনায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
সব মিলিয়ে পদত্যাগের ঘোষণার দিনে ইশরাক হোসেন নিজের অবস্থান দুই দিক থেকেই স্পষ্ট করলেন — অস্ত্র বের করা ছিল আত্মরক্ষার জন্য, আর দায়িত্ব ছাড়া হচ্ছে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও প্রশস্ত করার জন্য। এখন দেখার বিষয়, মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর তাঁর ঘোষিত সামাজিক প্রতিরোধের লড়াই মাঠে কতটা রূপ পায়।





