প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাজশাহী সফর আগামীকাল: সাজছে নগর, মাদ্রাসা মাঠে জনসভার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন সামনে রেখে রাজশাহী নগরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জনসভাস্থল থেকে শুরু করে বিমানবন্দর হয়ে নগরে ঢোকার পথ—বিভিন্ন এলাকায় সড়ক মেরামত, দেয়ালে রং ও চিত্রকর্ম আঁকা, পরিচ্ছন্নতা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভার মঞ্চ তৈরিসহ সার্বিক আয়োজন এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহী সফরে আসার কথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম রাজশাহী সফর। এ উপলক্ষে গত কয়েক দিন ধরেই নগরে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে, যার গতি সফরের আগের দিন এসে তুঙ্গে উঠেছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে শহরে প্রবেশের সড়কগুলোতে সংস্কারকাজ চলছে। কোথাও নতুন করে পিচঢালাই দেওয়া হচ্ছে, কোথাও সড়ক বিভাজক ও রেলিংয়ে রং করা হচ্ছে। রেলগেট এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দখল সরানোর পাশাপাশি আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা হচ্ছে। মহিলা কলেজ সড়কে দেয়ালে চিত্রকর্ম আঁকতে দেখা গেছে। সাহেববাজার এলাকাতেও ফুটপাত থেকে ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নগরের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বাড়াতে কাজ করছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। এর আগে ৬ থেকে ৮ অক্টোবর দরিখরবোনা মোড় থেকে মালোপাড়া, সরকারি মহিলা কলেজ এলাকা, বাটার মোড় ও নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
অন্যদিকে জনসভার মূল ভেন্যু ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠেও প্রস্তুতি চলছে। মাঠসংলগ্ন সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনসভার মঞ্চ তৈরি ও মাঠ পরিচ্ছন্ন করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান একাধিকবার মাদ্রাসা মাঠে গিয়ে প্রস্তুতির অগ্রগতি দেখেছেন। এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতা, দেয়ালে রং করা, সড়ক মেরামত ও মঞ্চ নির্মাণের কাজ পরিদর্শন করেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে চলমান উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গতকাল মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন করেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) শাহীন শওকত এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও মাঠের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রাজশাহীর মানুষের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক। গতকাল দুপুরে মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। শফিকুল হক বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি নিতে হলেও স্থানীয় মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
শফিকুল হক জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের বিষয়েও তাঁর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আসতে পারে বলে আশা করছেন এই সংসদ সদস্য। বিশেষ করে আখচাষিদের জন্য সহায়তার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।
সফরকালে রাজশাহীর উন্নয়নে কয়েকটি দাবি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনার কথাও জানান শফিকুল হক। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে বীজ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা, রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, কৃষিভিত্তিক রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন এবং রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা। এ ছাড়া একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও রাজশাহীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ ঘোষণার দাবিও তুলে ধরার কথা জানান তিনি।
প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা দেড়টায় রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বেলা তিনটায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
প্রথম সফর ঘিরে রাজশাহীবাসীর প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে—জনসভায় প্রধানমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলের কৃষি, শিক্ষা ও অবকাঠামো নিয়ে কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সবাই।




