এক দিনে দুই বিমানবন্দরে প্রায় ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ, ফ্রাইপ্যানের ভেতরেও লুকানো ছিল বার
এক দিনে দেশের দুই বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও স্বর্ণপেস্ট জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। চট্টগ্রাম ও ঢাকার দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো এই অভিযানে ধরা পড়েছে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে আনা স্বর্ণ।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রাইপ্যান ও সবজি গ্রেটারের ভেতরে লুকানো ৪৬৬ গ্রাম স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়েছে। আর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই যাত্রীর দেহের অভ্যন্তরে লুকানো ছয়টি ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্টের বস্তু উদ্ধার করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা স্বর্ণ ও স্বর্ণপেস্টের বস্তুর মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। দুটি অভিযানই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এবং সতর্ক নজরদারির মধ্য দিয়ে চালানো হয়।
চট্টগ্রামে সকাল ৭টায় আবুধাবি থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের BS350 ফ্লাইটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন কামরুল ইসলাম নামের এক যাত্রী। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা গ্রিন চ্যানেলে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
ওই যাত্রী ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার বহনের ঘোষণা দিলেও জিজ্ঞাসাবাদে অতিরিক্ত স্বর্ণ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। কিন্তু কর্মকর্তারা তাতে সন্তুষ্ট হননি, আর সেখান থেকেই শুরু হয় বিস্তারিত তল্লাশি।
পরে অন্যান্য সংস্থার উপস্থিতিতে তার ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ফ্রাইপ্যান ও সবজি গ্রেটারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো চারটি খণ্ডিত স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। রান্নাঘরের এই সাধারণ জিনিস দুটির ভেতরে স্বর্ণ লুকানোর কৌশল দেখে কর্মকর্তারাও বিস্মিত হন।
এসব স্বর্ণবারের ওজন ৪৬৬ গ্রাম। ঘোষিত ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারসহ মোট ৫৬৬ গ্রাম স্বর্ণ আটক করা হয়। শুল্ক-করসহ এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ৯৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা বলে কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।
একই দিন সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে মালদ্বীপ থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের BS338 ফ্লাইটে আসা দুই যাত্রী এই অভিযানে ধরা পড়েন।
দুই যাত্রীর দেহের অভ্যন্তরে লুকানো অবস্থায় ছয়টি ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্টের বস্তু উদ্ধার করা হয়। দুই যাত্রীর প্রত্যেকের কাছ থেকে তিনটি করে এসব বস্তু পাওয়া যায় — অর্থাৎ স্বর্ণকে পেস্ট আকারে শরীরের ভেতরে বহন করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
উদ্ধার করা ছয়টি বস্তুর মোট প্রাথমিক ওজন ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম। এগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা। তবে এসব বস্তুর মধ্যে প্রকৃত স্বর্ণের পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি, কারণ পেস্টের পুরোটাই বিশুদ্ধ স্বর্ণ নয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলা ও আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আলামতের যথাযথতা সংরক্ষণ করতে স্বর্ণপেস্টের বস্তুগুলো অবিকৃত রাখা হয়েছে। উপযুক্ত পরীক্ষার পর বিশুদ্ধ স্বর্ণের ওজন ও প্রকৃত মূল্য নিশ্চিত করা যাবে।
একই দিনে দুটি বিমানবন্দরে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দের ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, চোরাচালানকারীরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে — কখনো রান্নার সরঞ্জামের ভেতরে, কখনো শরীরের অভ্যন্তরে। এখন দুটি ঘটনাতেই মামলা ও আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে, আর পরীক্ষার পর ঢাকায় উদ্ধার পেস্টে প্রকৃত স্বর্ণের পরিমাণ চূড়ান্তভাবে জানা যাবে।




