ওয়ানডেতে পথ হারিয়েছে বাংলাদেশ: দুই বছরে বিদেশের মাটিতে ১৯ ম্যাচে হার ১৫টিতে
জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর পরশু রাতে থমথমে চেহারায় আবুধাবির শেখ আবু জায়েদ স্টেডিয়াম থেকে বের হলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। সভাপতি দলের খেলা দেখতে বিদেশে গেছেন, খেলোয়াড়দের সঙ্গে বসেছেন, কথা বলেছেন — কিন্তু ফল ঘুরেফিরে একই। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ যেভাবে পথ হারিয়ে ফেলেছে, ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে তা এক বড় অশনিসংকেত।
পরিসংখ্যানের আয়নায় তাকালে চিত্রটা আরও ভয়াবহ। গত দুই বছরে বাংলাদেশ বিদেশের মাঠে যে ১৯টি ওয়ানডে খেলেছে, তার ১৫টিতেই হেরেছে। বৃষ্টিতে ভেসে গেছে ১টি, জিতেছে মাত্র ৩টি। একই সময়ে বিদেশের মাঠে কোনো ওয়ানডে সিরিজই জিততে পারেনি বাংলাদেশ।
এর মধ্যে সমশক্তির প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ধবলধোলাই হওয়ার ঘটনাও আছে। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজও বাংলাদেশ জিততে পারেনি। ওয়ানডেতে এই মলিন পরিসংখ্যান দেখে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের শঙ্কিত হওয়াই স্বাভাবিক।
মাঝে তো বাংলাদেশের ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করাই কঠিন হয়ে গিয়েছিল। ভাগ্য ভালো, গত এক বছরে দেশের মাঠে বাংলাদেশ টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ খেলার সুযোগ পেয়েছিল। নিজেদের চেনা কন্ডিশনে চারটি সিরিজ জিতে র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের জায়গা ঠিক রেখে কোনোভাবে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
মজার ব্যাপার হলো, যে অধিনায়কের অধীনে বাংলাদেশ টানা চারটি সিরিজ জিতে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করল, সেই মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে দেওয়া হলো যোগ্যতা অর্জনের পরই। ২০২৭ বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো বছরখানেক বাকি। তার আগে প্রস্তুতিমূলক সিরিজ হিসেবে ধরা হচ্ছে আরব আমিরাতে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজ।
সেই সিরিজের শুরুতেই জিম্বাবুয়ের কাছে ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশকে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ আফগানিস্তানের বিপক্ষে, আগামী বুধবার। বাংলাদেশ আদৌ সিরিজের ফাইনাল খেলতে পারবে কি না, সেই প্রশ্ন এখন সামনে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই করুণ দশা কেন? বিশেষ করে বিদেশের মাঠে। অথচ একসময় এই ৫০ ওভারের সংস্করণই দেশ-বিদেশে ধারাবাহিক সাফল্যে বাংলাদেশের কাছে ‘প্রিয়’ হয়ে উঠেছিল। প্রধান কারণ খুঁজতে গেলে সবার আগে আসে ব্যাটিং ব্যর্থতার কথা।
সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভালো একটা শুরুর পরও বাংলাদেশ ধসে গেছে বাজে ব্যাটিংয়ে। স্কোর গড়তে পারলেও রান তাড়ায় বাংলাদেশ আরও দুর্বল। নিজেদের সর্বশেষ ১০ ওয়ানডের আটটিতেই ২৪০ পেরোনো লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি।
অবস্থা এতটাই করুণ যে, ওয়ানডেতে পুরো ৫০ ওভার খেলতে পারছে না বাংলাদেশ। চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজের বাকি দুই দলের বিপক্ষে সবশেষ ৬ ম্যাচের একটিতেও ৫০ ওভার ব্যাটিং করতে পারেনি তারা।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ হারের পর নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের সরল স্বীকারোক্তি, ‘আসলে আমরা কিছু বোকার মতো ভুল করেছি। আশা করি, এগুলো দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারব।’
ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের শুরুটা হয়েছে দারুণ। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে আজ তাদের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। আফগানদের বিপক্ষে জিতলে ফাইনাল নিশ্চিত হবে জিম্বাবুয়ের। আজকের ম্যাচে তাই বাংলাদেশও তাকিয়ে থাকবে জিম্বাবুয়ের দিকে — নিজেদের ফাইনালের সমীকরণ মেলাতে প্রতিপক্ষের জয়ই এখন তাদের কাম্য।
কিন্তু আসল প্রশ্নটা আরও গভীরে। ‘বোকার মতো’ ভুল করলে জিম্বাবুয়েও যখন চেপে ধরে, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন কন্ডিশনে আগামী বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে বাংলাদেশের জন্য কী অপেক্ষা করছে, সেটা ভাবার সময় এসেছে এখনই।





