ভিক্টোরিয়ায় গণপরিবহনের সাপ্তাহিক ভাড়া ৩০ ডলারে সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি লেবার পার্টির
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে পুনর্নির্বাচিত হলে গণপরিবহনের ভাড়া সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৩০ ডলারে সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। রাজ্যের প্রিমিয়ার বেন ক্যারল সোমবার জানিয়েছেন, এই ভাড়ার সীমা আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
ক্যারলের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্ধেক ভাড়ার সুবিধা শেষ হওয়ার ঠিক পরদিন থেকেই নতুন সীমা চালু হবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে রাজ্যে এক দফা বিনা ভাড়ায় গণপরিবহন চালু করা হয়েছিল, তারপর এসেছিল অর্ধেক ভাড়ার সুবিধা।
প্রিমিয়ার বলেন, এটি প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয়ে স্বস্তি, যা একজন নিয়মিত যাত্রীকে বছরে ১ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করতে সাহায্য করবে। সবাই এর সুবিধা পেলেও পূর্ণকালীন কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকার জানিয়েছে, এই ভাড়ার সীমা বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। পরিকল্পনাটি চলবে দুই বছর, ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
তবে সরকার একই সঙ্গে স্বীকার করেছে, দীর্ঘ মেয়াদে এই ভাড়ার সীমা টেকসই নয়। অন্য খাতে ব্যয় কমানোর মতো বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এর অর্থের জোগান দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
গ্রিনস দলের নেতা এলেন স্যান্ডেল সরকারের প্রতি আরও এগিয়ে গিয়ে গণপরিবহন সম্পূর্ণ বিনা ভাড়ায় করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর লেবার পার্টি ভিক্টোরিয়ানদের শুধু নির্বাচনের পরে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া অস্থায়ী ছাড়ের প্রস্তাব দিচ্ছে।
স্যান্ডেল আরও বলেন, মানুষ বেশি টাকা দিয়ে কম সেবা পেতে পেতে বিরক্ত। তাদের দরকার আরও ঘন ঘন চলাচলকারী, নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য ট্রেন, ট্রাম ও বাস, যার ওপর তারা সত্যিই নির্ভর করতে পারে।
এই প্রতিশ্রুতির আগের দিন রোববার লেবার পার্টি সড়কের টোল সপ্তাহে ৩০ ডলারে সীমিত রাখার অঙ্গীকার করেছিল এক বছরের জন্য, যা নিয়মিত টোল ব্যবহারকারী চালকদের বছরে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারে। অন্যদিকে কোয়ালিশন আগেই জানিয়েছে, নভেম্বরে নির্বাচিত হলে তারা সপ্তাহে ৫০ ডলারের টোল সীমা চালু করবে।
বিরোধীদলীয় নেতা জেস উইলসন রোববার সাংবাদিকদের বলেন, অনুকরণই সবচেয়ে বড় প্রশংসা। তবে তিনি দাবি করেন, টোল কমানোর ব্যাপারে লেবার পার্টিকে বিশ্বাস করা যায় না, কারণ ক্ষমতায় থাকা ১২ বছরে তারা ধারাবাহিকভাবে টোল বাড়িয়েছে।
উইলসনের ভাষ্য, আজ ভিক্টোরিয়ানরা যে বেশি টোল দিচ্ছেন, তা এই লেবার সরকারের সিদ্ধান্তেরই সরাসরি ফল। তাই রাত পোহানোর আগমুহূর্তে এসে তারা টোল কমাবে—এ কথা বিশ্বাস করা যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আগামী মাসে ভিক্টোরিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে দুই পক্ষের এই প্রতিশ্রুতির প্রতিযোগিতাই এখন রাজ্যের নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে।




