১৭ সেকেন্ডে নকডাউন, দ্বিতীয় রাউন্ডেই শেষ: ওয়ার্ডলিকে উড়িয়ে ডব্লিউবিও খেতাব ধরে রাখলেন ডুবোয়া
লন্ডনে বিশ্ব খেতাবের রিম্যাচে সহ-ব্রিটিশ বক্সার ফ্যাবিও ওয়ার্ডলিকে একপেশে ও বিধ্বংসী দ্বিতীয় রাউন্ডের স্টপেজে হারিয়ে ডব্লিউবিও হেভিওয়েট বেল্ট ধরে রাখলেন ড্যানিয়েল ‘ডায়নামাইট’ ডুবোয়া।
শনিবার ওটু অ্যারেনায় ২৯ বছর বয়সী চ্যাম্পিয়ন শুরু থেকেই ঝড় তোলেন — উদ্বোধনী ঘণ্টার মাত্র ১৭ সেকেন্ডের মধ্যে সোজা ডান হাতের ঘুষিতে ওয়ার্ডলিকে ফ্লোরে ফেলে দেন তিনি।
৩১ বছর বয়সী ওয়ার্ডলি কাউন্ট পেরিয়ে উঠে দাঁড়ালেও প্রথম রাউন্ডের শেষে রশির ওপর আরও নির্মম মার খেয়ে ঘণ্টার শব্দেই রক্ষা পান — সেখানেই লড়াই থেমে যেতে পারত। দ্বিতীয় রাউন্ডে আর রেহাই মেলেনি। ডুবোয়া যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই শুরু করেন; ওয়ার্ডলি একের পর এক ঘুষি খেতে থাকলে তোয়ালে ছুড়ে দেওয়া হয় এবং রেফারি স্টিভ গ্রে লড়াই থামিয়ে দেন।
ম্যাচ শেষে সংক্ষিপ্ত কথার জন্য পরিচিত ‘ট্রিপল ডি’ বলেন, ‘ফ্যাবিও দারুণ যোদ্ধা, দ্বিতীয়বার আসছে, কিন্তু এটা ছিল আমার সময়, আমার যুগ।’ তিনি বলেন, শুরু থেকেই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট — ‘খারাপ উদ্দেশ্য’ নিয়েই নেমেছিলেন। ‘প্রথমবার আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। এবার শুধু বাইরে গিয়ে দেখাতে হতো আমরা সত্যিই কাজের কথা বলি, আর আজ রাতে আমরা সেটাই করেছি।’
দুজনের প্রথম দেখাটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্প। গত মে মাসে ম্যানচেস্টারে রক্তাক্ত ও উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে ডুবোয়া দুবার নকডাউনের শিকার হয়েও — প্রথমটি মাত্র ১৬ সেকেন্ডে — ফিরে এসে একাদশ রাউন্ডে খেতাব জিতেছিলেন। ইউক্রেনের ওলেক্সান্দর উসিক খেতাব ছেড়ে দেওয়ার পর নভেম্বরে ডব্লিউবিও চ্যাম্পিয়ন হিসেবে উন্নীত ওয়ার্ডলি প্রথম লড়াইয়ে সাহস ও হার না মানার জন্য প্রশংসিত হলেও শনিবার তাঁকে ম্যানচেস্টারের সেই মানুষটির ছায়া বলেই মনে হয়েছে।
এই হারে ওয়ার্ডলির রেকর্ড এখন ২০ জয় ও দুই পরাজয়, আর ডুবোয়ার ২৪ জয় ও তিন পরাজয়। ওয়ার্ডলি বলেন, ‘আমি সব সময় সেরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে নিজেকে ছুড়ে দিয়েছি — সবচেয়ে কঠিন, সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে শক্ত, সবচেয়ে নির্দয় যারা আছে। সেরাদের বিরুদ্ধে নিজেকে পরীক্ষা করায় কোনো লজ্জা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ড্যানিয়েল প্রমাণ যে পিছিয়ে পড়েও আবার ফিরে আসা যায়। আমিও ঠিক সেটাই করতে চাইব। বক্সিং সূক্ষ্ম ব্যবধানের খেলা — এক-দুই রাউন্ডেই শেষ হয়ে যেতে পারে, আবার গতবারের মতো বড় যুদ্ধেও যেতে পারে।’
এর আগে ডুবোয়া ছিলেন আইবিএফ চ্যাম্পিয়ন; গত জুলাইয়ে লন্ডনে উসিকের কাছে সেই খেতাব হারানোর পর তিনি ফিরে এসে ওয়ার্ডলির কাছ থেকে ডব্লিউবিও বেল্ট নেন। এবার বেল্ট ধরে রাখার পর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জও হাজির।
শনিবার রিংসাইডে ছিলেন ক্রোয়েশিয়ার ফিলিপ হ্রগোভিচ, যিনি আগস্টে যুক্তরাজ্যের মোজেস ইতাউমাকে হারিয়ে আইবিএফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তিনি ডুবোয়াকে দুটি বেল্ট লাইনে রেখে লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ জানান। হ্রগোভিচ বলেন, ‘ড্যানিয়েলের জন্য সহজ রাত ছিল। সে ভালো কাজ করেছে, দ্রুত জয়। তাহলে সে মার্চে আমার সঙ্গে লড়তে প্রস্তুত, তাই না, ড্যানিয়েল?’ — যদিও প্রমোটার ফ্র্যাঙ্ক ওয়ারেন ইঙ্গিত দেন, তাঁকে আগে অন্য প্রার্থীদের মোকাবিলা করতে হতে পারে।
ডুবোয়া ২০২৪ সালের জুনে হ্রগোভিচকে হারিয়ে অন্তর্বর্তী আইবিএফ বেল্ট নিয়েছিলেন এবং উসিক খেতাব ছেড়ে দিলে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে উন্নীত হন। পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর চ্যালেঞ্জে তাঁর জবাবও ছিল আত্মবিশ্বাসী: ‘আমি তাঁর সঙ্গে রিম্যাচ চাই। আমি আমার পুরোনো বেল্ট ফিরে পেতে চাই এবং বিভাগ শাসন করতে চাই।’ ফলে লন্ডনের এই দ্রুত জয় শুধু বেল্ট রক্ষাই নয়, হেভিওয়েট বিভাগে পরবর্তী বড় লড়াইয়ের মঞ্চও তৈরি করে দিল।



